কিউবার জ্বালানি সরবরাহ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ দেশটিকে ভয়াবহ মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেছেন, প্রয়োজনীয় তেলের যোগান বন্ধ থাকলে কিউবায় মানবিক পরিস্থিতি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ্বালানি সংকটে দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল জানিয়েছেন, অবরোধের প্রভাবে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং স্কুল, হাসপাতাল ও গণপরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলায় সরকার রেশনিং পরিকল্পনা চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
![]()
জাতিসংঘের অবস্থান ও পুরোনো অবরোধের ইতিহাস
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক এক ব্রিফিংয়ে জানান, মহাসচিব কিউবার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তেলের ঘাটতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি ধসে পড়তে পারে। তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বাণিজ্য অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। উনিশশ ষাট সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর এই অবরোধ বজায় রেখেছে।
নতুন উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে তেলবাহী জাহাজ জব্দ করা শুরু করেছে। একই সঙ্গে কিউবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগও তুলেছে ওয়াশিংটন। তবে কিউবা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান বজায় রেখে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ঝড়বিধ্বস্ত পূর্বাঞ্চলের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যদিও খাদ্য সংকটের সঙ্গে তেল অবরোধের সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেছে তারা।
মানবিক সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘদিন ব্যাহত থাকলে কিউবার স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শিক্ষা ও অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। জাতিসংঘের সতর্কবার্তা তাই আন্তর্জাতিক মহলের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















