যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে আবারও তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টে তিনি দাবি করেন, আমেরিকার নির্বাচন ‘কারচুপিপূর্ণ, চুরি হওয়া এবং বিশ্বজুড়ে হাস্যকর’ অবস্থায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি রিপাবলিকানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দ্রুত একটি বিস্তৃত নির্বাচন সংস্কার আইনের পক্ষে সমর্থন দেওয়ার জন্য।

ভোট ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
ট্রাম্প যে প্রস্তাব সামনে এনেছেন, যেখানে বাধ্যতামূলক ভোটার পরিচয়পত্র, ভোটার নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং ডাকযোগে ভোটের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। তার মতে, এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর না হলে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে।
হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ও জানানো হয়েছে, ভোটার যোগ্যতা ও নিবন্ধন আরও কঠোর করতে সংশ্লিষ্ট আইন দ্রুত অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব নীতিকে দেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ সমর্থন করে।
আগের পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা
এর আগে নির্বাচনী নিয়ম আরও কঠোর করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। সেই উদ্যোগে বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকানো এবং ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাই জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন প্রস্তাবেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ডাকযোগে ভোট সম্পূর্ণ বন্ধ করার কথা ও উল্লেখ করেছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বিরোধিতা
ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে নির্বাচন ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখছে ডেমোক্র্যাট শিবির। সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব আগেই জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো বিল পাসের সুযোগ নেই এবং তারা এর বিরুদ্ধে ভোট দেবে। ফলে প্রস্তাবিত আইনের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে
আগামী নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনের ফলেই প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের নতুন দাবি রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















