জীবনের শেষ সময়ে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে থাকা মানুষকে চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর সুযোগ দেওয়া উচিত কি না—এই বিতর্ক বহুদিনের। এখন সেই প্রশ্নে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে দ্রুত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। খুব শিগগিরই এমন অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা বাড়তে পারে, যেখানে গুরুতর অসুস্থ রোগীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সহায়তা প্রাপ্ত মৃত্যুর অনুমতি পাবেন। ফলে বছরের শেষ নাগাদ দেশটির এক তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ এমন আইনের আওতায় বসবাস করতে পারেন।
একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে রাজনৈতিক অঙ্গীকার
সত্তরতম জন্মদিনে অদ্ভুত এক ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন প্যাট্রিসিয়া অ্যান কোর্টনি। উদ্যাপন নয়, তিনি চেয়েছিলেন পরিত্যক্ত একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ভবন কিনে সেটিকে গৃহ-নির্যাতনের শিকার নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ দিতে। কয়েক বছর পর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ধীরে ধীরে হাঁটা, খাওয়া ও কথা বলার ক্ষমতা হারান। তার সেই অসহায় যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা গভীরভাবে প্রভাবিত করে কন্যা ক্যাথি হোকুলকে, যিনি এখন নিউইয়র্কের গভর্নর। প্রিয়জনের কষ্ট দেখেও কিছু করতে না পারার বেদনা থেকেই তিনি এই আইনি পরিবর্তনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
দ্রুত বাড়ছে আইনি স্বীকৃতি
নিউইয়র্ক শিগগিরই সেই অঙ্গরাজ্যগুলোর কাতারে যোগ দিতে পারে, যেখানে সহায়তা প্রাপ্ত মৃত্যু বৈধ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে এমন আইন পাস হয়েছে। জনমত ও ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। অর্ধেকের বেশি আমেরিকান এখন এই প্রক্রিয়াকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করেন, আর রোগী যদি তীব্র যন্ত্রণায় ভোগেন ও সুস্থতার আশা না থাকে, তবে সমর্থনের হার আরও বাড়ে।
কঠোর শর্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
আমেরিকার আইনে সাধারণত রোগীর জীবনের সম্ভাব্য মেয়াদ ছয় মাস বা তার কম হতে হয় এবং এই মূল্যায়ন দুজন চিকিৎসককে নিশ্চিত করতে হয়। রোগীকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে, নিজেই অনুরোধ জানাতে হবে এবং নিজেই ওষুধ গ্রহণ করতে সক্ষম হতে হবে। চিকিৎসক সরাসরি মৃত্যুদান করতে পারেন না। ফলে খুব কম মানুষই এই সুবিধার আওতায় পড়েন, আর যেখানে আইন আছে সেখানে ও মোট মৃত্যুর এক শতাংশের কম ক্ষেত্রে এটি ঘটে। নিউইয়র্ক আরও কঠোর নিয়ম যোগ করেছে—রোগীর মানসিক সক্ষমতা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা যাচাই, মৃত্যুর অনুরোধের ভিডিও রেকর্ড এবং প্রত্যক্ষদর্শীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
ধর্মীয় ও সামাজিক আপত্তি
বছরের পর বছর ধরে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিতর্ক চলেছে। ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিবন্ধী অধিকার কর্মীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, সামাজিক চাপ মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। যদিও সমর্থকেরা বলছেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের প্রমাণ নেই এবং এটি কেবল চূড়ান্ত পর্যায়ের রোগীদের সীমিত অধিকার হিসেবেই থাকবে।
রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন
কিছু রাজনৈতিক এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে দেখছেন। সমকামী অধিকার বা গর্ভপাত বৈধতার মতো বিষয়ের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে। সমর্থকদের দাবি, কয়েক দশকের তথ্য প্রমাণ করে যে বিদ্যমান মডেল নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
চলতি বছরে আরও বহু অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের বিল আলোচনায় উঠতে পারে। তবে এই লড়াই ধৈর্য ও দীর্ঘ প্রচেষ্টার দাবি রাখে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মরণাপন্ন অনেক রোগীর কাছে অপেক্ষা করার মতো সময় থাকে না—এই বাস্তবতাই বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















