০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
এআইয়ের চাপে কিছু কর্মী পুনঃপ্রশিক্ষণের বদলে অবসর বেছে নিচ্ছেন মঞ্চে ‘ডগ ডে আফটারনুন’: ব্যাংক ডাকাতির গল্পে হাস্যরসের ছোঁয়া, তবু কোথায় যেন অপূর্ণতা বসন্তের সতেজতার প্রতীক স্প্রিং অনিয়ন বায়োহ্যাকিং: আজকের খাদ্য ও স্বাস্থ্য ট্রেন্ড কারা অনুসরণ করছে? টানা ফ্রেঞ্চের রহস্যধর্মী মাস্টারপিস “দ্য কিপার”: আইরিশ গ্রামের অন্ধকারের অন্তর্দৃষ্টি আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬: ছয়টি উপন্যাস পেল শীর্ষ ষ্ট্রিংলিস্ট, ঘোষণা নিয়ে সাহিত্য দুনিয়ায় আলোড়ন ওয়্যারলেস ফেস্টিভ্যালে কানিয়ে ওয়েস্টকে ঘিরে স্পনসর সরে যাচ্ছে, বাড়ছে সাংস্কৃতিক অস্বস্তি পিকসার্ট নির্মাতাদের জন্য নতুন আয়-পথ খুলছে, এআই ডিজাইন বাজারে বদল আসার ইঙ্গিত এআই অবকাঠামোর দৌড় থামাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট, যন্ত্রাংশের বিলম্ব আর শুল্কচাপ দুই সার কারখানার পর এবার বন্ধের পথে ডিএপিএফসিএল

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমঝোতা, ট্রাম্পের চাপের পর বাণিজ্যে নতুন মোড়

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানো এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া। এই ঘোষণাকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সমঝোতা ওয়াশিংটনের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

শুল্ক কমানোর প্রস্তাব ও পটভূমি
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক কমানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তার ছয় মাস আগে তিনি রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতে চাপ সৃষ্টি করতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে সম্মত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

পারস্পরিক সুবিধা ও বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্য
যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ এই সমঝোতাকে পারস্পরিক ও উভয়ের জন্য লাভজনক বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে আরও বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোনোর প্রতিশ্রুতি ও দেওয়া হয়েছে, যেখানে বাজারে প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ এবং আরও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের সম্ভাব্য ছাড় ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা
কাঠামো অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প পণ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা, ভারত ধাপে ধাপে আমদানি শুল্ক শূন্যে নামাবে এবং পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজার নিশ্চিত করতে চায়।

পূর্বের শুল্ক প্রত্যাহার ও কূটনৈতিক বার্তা
একই দিনে ট্রাম্প গত বছর আরোপ করা পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে সই করেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআইয়ের চাপে কিছু কর্মী পুনঃপ্রশিক্ষণের বদলে অবসর বেছে নিচ্ছেন

ভারত–যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমঝোতা, ট্রাম্পের চাপের পর বাণিজ্যে নতুন মোড়

০৫:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানো এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া। এই ঘোষণাকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সমঝোতা ওয়াশিংটনের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

শুল্ক কমানোর প্রস্তাব ও পটভূমি
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক কমানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তার ছয় মাস আগে তিনি রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতে চাপ সৃষ্টি করতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে সম্মত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

পারস্পরিক সুবিধা ও বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্য
যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ এই সমঝোতাকে পারস্পরিক ও উভয়ের জন্য লাভজনক বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে আরও বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোনোর প্রতিশ্রুতি ও দেওয়া হয়েছে, যেখানে বাজারে প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ এবং আরও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

ভারতের সম্ভাব্য ছাড় ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা
কাঠামো অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প পণ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা, ভারত ধাপে ধাপে আমদানি শুল্ক শূন্যে নামাবে এবং পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজার নিশ্চিত করতে চায়।

পূর্বের শুল্ক প্রত্যাহার ও কূটনৈতিক বার্তা
একই দিনে ট্রাম্প গত বছর আরোপ করা পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে সই করেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।

এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ।