ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক কমানো এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়া। এই ঘোষণাকে ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সমঝোতা ওয়াশিংটনের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
শুল্ক কমানোর প্রস্তাব ও পটভূমি
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক কমানোর পরিকল্পনার কথা জানান। তার ছয় মাস আগে তিনি রাশিয়ার সস্তা অপরিশোধিত তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাতে চাপ সৃষ্টি করতে উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামানোর কথা বলা হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে সম্মত হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।
পারস্পরিক সুবিধা ও বৃহত্তর চুক্তির লক্ষ্য
যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ এই সমঝোতাকে পারস্পরিক ও উভয়ের জন্য লাভজনক বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে আরও বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তির দিকে এগোনোর প্রতিশ্রুতি ও দেওয়া হয়েছে, যেখানে বাজারে প্রবেশাধিকারের সম্প্রসারণ এবং আরও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে চুক্তিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
ভারতের সম্ভাব্য ছাড় ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা
কাঠামো অনুযায়ী ভারত যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প পণ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নিতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যাশা, ভারত ধাপে ধাপে আমদানি শুল্ক শূন্যে নামাবে এবং পাঁচ বছরে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কিনবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজার নিশ্চিত করতে চায়।
পূর্বের শুল্ক প্রত্যাহার ও কূটনৈতিক বার্তা
একই দিনে ট্রাম্প গত বছর আরোপ করা পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে সই করেন। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন গতি পেতে পারে, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার ফলই নির্ধারণ করবে চুক্তির চূড়ান্ত রূপ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















