লন্ডনে এক বিশেষ প্রদর্শনীতে আসন্ন চলচ্চিত্র ‘উদারিং হাইটস’ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নির্মাতা এমেরাল্ড ফেনেল জানালেন এক অদ্ভুত সৃজনশীল সিদ্ধান্তের কথা। ছবির নায়িকা মারগট রবি’র ত্বকের শিরা ও ফ্রিকলসের ছবিকে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ক্যাথির শয়নকক্ষের ওয়ালপেপার, যা দর্শকের চোখে প্রথমে ধরা না পড়লেও চরিত্রের গভীর অনুভূতি প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্লাসিক উপন্যাসের নতুন রূপ
এমিলি ব্রন্টির বিখ্যাত কাহিনির নতুন বড় পর্দার সংস্করণে ক্যাথির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মারগট রবি এবং হিথক্লিফ চরিত্রে রয়েছেন জ্যাকব এলোরদি। নির্মাতার ভাষায়, গোলাপি রঙের ঘরটি বাইরে থেকে নিছক সুন্দর মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে আছে এক নারীর বস্তুতে পরিণত হওয়ার অনুভূতির দৃশ্যমান প্রতীক। রেশমের ওপর মুদ্রিত ত্বকের নকশা, তার ভেতরে স্তর যোগ করা এবং উপরিভাগে ল্যাটেক্স ব্যবহার—সব মিলিয়ে সেটটিকে জীবন্ত অনুভূতি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

চরিত্রে ঢুকতে অভিনব প্রস্তুতি
শুধু সেট নয়, অভিনেতাদের মানসিকভাবে চরিত্রে ডুবিয়ে দিতে ও ভিন্ন পথ বেছে নেন ফেনেল। তিনি ইন্টারনেট ঘেঁটে অভিনেতাদের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ ছবিগুলো সংগ্রহ করে তাঁদের কক্ষে ছোট ছোট ‘মন্দিরের’ মতো সাজিয়ে দেন। এতে করে একে অপরের উপস্থিতি ও আবেগকে কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ তৈরি হয়, যা অভিনয়ে মানবিক গভীরতা বাড়াতে সহায়ক বলে মনে করেন নির্মাতা।
ক্যাথি চরিত্রে মারগটের আগ্রহ
ফেনেল জানান, শুরুতে তিনি শুধু প্রযোজনার উদ্দেশ্যে চিত্রনাট্যটি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মারগট নিজেই ক্যাথি চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। নির্মাতা স্বীকার করেন, সম্পর্কের ভিন্নতার কারণে তিনি সরাসরি প্রস্তাব দিতে দ্বিধায় ছিলেন, বরং মারগটের সাহসী আগ্রহই বিষয়টিকে বাস্তবে রূপ দেয়।
শৈশব ও ব্যক্তিগত জীবন
১৯৯০ সালের ২ জুলাই কুইন্সল্যান্ডের ডালবিতে জন্ম মারগট এলিস রবি’র। তাঁর বাবা ছিলেন খামারের মালিক ও আখ ব্যবসায়ী, আর মা পেশায় ফিজিওথেরাপিস্ট। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর তিনি মায়ের সঙ্গে গোল্ড কোস্টে বেড়ে ওঠেন এবং শৈশবের বড় সময় কাটে দাদা-দাদির খামারে। একক মায়ের সংগ্রাম ও পারিবারিক টানাপোড়েন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















