বাংলাদেশের মানুষ গোপনে ঠিক করে ফেলেছে তারা কাকে ভোট দেবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে— এমনটাই দাবি করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, দেশের সচেতন, বিবেকবান ও স্বপ্নবান মানুষ তুলনামূলক ভালো শক্তির পক্ষেই নীরবে অবস্থান নিয়েছে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তারা নিরবে সেই দায়িত্ব পালন করবে।
রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের অভিযোগ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর একটি রাজনৈতিক শক্তি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন নাহিদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির কেউ সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রী না হলেও অপরাধীকরণে জড়িয়ে পড়া একটি গোষ্ঠী প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে চাঁদাবাজি, জমি দখল, বদলি-পদোন্নতি, মিথ্যা মামলা, রায় বেচাকেনা ও ব্যাপক দুর্নীতির জন্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন শক্তি আবার ক্ষমতায় ফিরলে দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে— যা অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই মানুষ বুঝেছে।

ক্ষমতায় গেলে প্রতিশ্রুত সংস্কার
নির্বাচিত হলে তিনি সতেরোটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা বলেন। প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন গুম, হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ব্যাংক ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লুট হওয়া অর্থ উদ্ধার এবং অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন। তার লক্ষ্য ঘুষ, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের সংস্কৃতি বন্ধ করে বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া এবং জনগণের সম্পদ জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা
সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ব্যর্থ উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, উচ্চপর্যায়ের অনাগ্রহের কারণেই এটি কার্যকর হয়নি। তিনি দাবি করেন, তথাকথিত অভিযানের পরও অপরাধী শনাক্ত, অস্ত্র উদ্ধার বা গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান সাফল্য আসেনি।

পররাষ্ট্রনীতি ও প্রতিরক্ষা ভাবনা
পররাষ্ট্রনীতিতে মৌলিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একক প্রভাবনির্ভর নীতি থেকে সরে এসে স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেওয়া হবে। তার অভিযোগ, আগের সরকারের নীতি জাতীয় স্বার্থ দুর্বল করেছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাজেটের বড় অংশ বেতন-ভাতায় ব্যয় হওয়া টেকসই নয়। জাতীয় প্রতিরক্ষা জোরদারে আঠারো বছরের বেশি বয়সী সক্ষম নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তাবও দেন তিনি।
পুলিশ ও বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তনের অঙ্গীকার
গত পনেরো বছরে হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দেন নাহিদ। স্থানীয় সরকারভিত্তিক কাঠামোয় পুলিশ পুনর্গঠন, উপজেলা পর্যায়ে নিয়োগ-পোস্টিং এবং নারী-পুরুষ সমসংখ্যক সদস্য নিশ্চিত করার কথাও বলেন। পাশাপাশি বাহিনীর নতুন নামকরণের প্রস্তাব দেন তিনি। বিচারব্যবস্থায় দক্ষ ও নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগ, বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এবং ঘুষনির্ভর রায় বাণিজ্যের সংস্কৃতি ভাঙার ওপর জোর দেন।

শেষ আহ্বান
ভাষণের শেষাংশে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোটের পক্ষে ভোট চান নাহিদ। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, নিত্যপণ্যের দাম কমানো, ভেজাল রোধ, লিঙ্গসমতা, সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















