সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ আমিরাতের মনোরম খোরফাক্কান অ্যাম্ফিথিয়েটারে অনুষ্ঠিত হলো প্রখ্যাত আরব সংগীতশিল্পী আসালার বহুল প্রতীক্ষিত সঙ্গীতানুষ্ঠান। “লেটস খোরফাক্কান” মৌসুমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই আয়োজন উপভোগ করতে সমুদ্র ও পাহাড় ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক দর্শক। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আবেগ, নস্টালজিয়া ও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা এক সন্ধ্যায় ডুবে ছিল পুরো পরিবেশ।
এমিরাতি ঐতিহ্যে সাজে মঞ্চে আসালা
মঞ্চে ওঠার সময় আসালা বেছে নেন উপসাগরীয় ঐতিহ্যনির্ভর পোশাক, যার মধ্যে ছিল এমিরাতি বোরকা। এই নির্বাচন ছিল খোরফাক্কানের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও স্থানীয় দর্শকদের প্রতি তার শ্রদ্ধার প্রতীক। শিল্পী জানান, জীবন্ত সঙ্গীত পরিবেশনায় দর্শকের সঙ্গে সংযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আর খোরফাক্কানের দর্শকরা মনোযোগ ও অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
প্রকৃতির মাঝে ভিন্ন এক সঙ্গীত অভিজ্ঞতা
আসালার মতে, খোলা আকাশের নিচে অবস্থিত এই অ্যাম্ফিথিয়েটার শিল্পীদের জন্য এক ভিন্ন অনুভূতি তৈরি করে, যেখানে প্রকৃতি কেবল পটভূমি নয়, বরং পরিবেশনার অংশ হয়ে ওঠে। শহরের শান্ত পরিবেশ শিল্পী ও দর্শক—উভয়ের মধ্যেই স্বস্তির আবহ সৃষ্টি করে, যা পুরো আয়োজনকে আরও গভীর করে তোলে। খোরফাক্কান ও শারজাহতে একাধিকবার পরিবেশনার স্মৃতি তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বলেও জানান তিনি।
জনপ্রিয় গানে উচ্ছ্বসিত দর্শক
সন্ধ্যার শুরুতেই তিনি পরিবেশন করেন তার জনপ্রিয় গান “তৌক আলা বালি”, এরপর আবেগঘন “আল সুরা” এবং প্রাণবন্ত “মাঙ্গা” দর্শকদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তোলে। “কাথার আল্লাহ খাইর” ও “কেইফকম” গানে দর্শকদের করতালি ও সাড়া আরও তীব্র হয়। পরপর “রুহ ও রুহ” ও “বিনত আকাবের” গাইতে গাইতে দর্শকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েন শিল্পী।
![]()
নস্টালজিয়া ও আবেগে ভরা শেষ পর্ব
পরবর্তী সময়ে “তালাবতাক” ও “লা সালাম” পরিবেশনায় তৈরি হয় আবেগঘন মুহূর্ত। আবার “হাদরাত আল মাওকিফ” গানে ফিরে আসে উচ্ছ্বাস। শেষাংশে “ওয়াহশা”, “আকরাব কারিব”, “আদা” ও “সুয়াল বাসিত” গেয়ে তিনি নস্টালজিয়া ও প্রাণবন্ত সুরের মেলবন্ধন ঘটান। দর্শকরা করতালিতে সঙ্গ দেন “তাসাদ্দা” ও “ইসমা সাদা সাওতাক” গানে, আর “মা আরাতিক” ও “ঘালবান” দিয়ে শেষ হয় স্মরণীয় এই সঙ্গীত সন্ধ্যা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















