জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় সব তফসিলি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ভিত্তিক তহবিল স্থানান্তর ৯৬ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে স্বাভাবিক সেবা পুনরায় চালু হবে বলে জানানো হয়েছে।

কখন থেকে কার্যকর হবে সিদ্ধান্ত
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার রাত বারোটা থেকে এই সীমাবদ্ধতা কার্যকর হয়ে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ে এনপিএসবিভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। ফলে গ্রাহকেরা তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তরের সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন না, যা সাধারণত প্রতি লেনদেনে পঞ্চাশ হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুমোদিত ছিল।
সীমিত পরিসরে চলবে এমএফএস সেবা
ইন্টারনেট ব্যাংকিং স্থগিত থাকলেও মোবাইল আর্থিক সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে না। অস্থায়ী ব্যবস্থায় একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা অন্য ব্যবহারকারীর কাছে পাঠাতে পারবেন এবং দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা সর্বোচ্চ দশটিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে ব্যবসায়ী পরিশোধ ও ইউটিলিটি বিল প্রদানে বিদ্যমান নিয়ম বহাল থাকবে, যা গ্রাহকের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে।

নির্বাচনকালীন নজরদারি জোরদার
ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পাঠানো নির্দেশনায় নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত সমাধানের জন্য বিশেষ সাড়া ইউনিট গঠনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত সময়জুড়ে সব লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে এবং সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বয়
সাধারণ গ্রাহকের কিছু সেবা সীমিত থাকলেও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময় শেষ হলে সব ধরনের লেনদেন সুবিধা আগের মতো স্বাভাবিকভাবে চালু হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















