০৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
চীনের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল, অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকেই আয়ের পথ খুঁজছে প্রশাসন চীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রেমে লাগাম, নতুন নিয়মে বন্ধ হচ্ছে ভার্চুয়াল সম্পর্ক শি জিনপিংয়ের আমলে নতুন নজির, পলিটব্যুরো থেকে সরানো হলো মা শিংরুইকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বড় চ্যালেঞ্জ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন হামলায় বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা লাওসে মদে বিষাক্ত মেথানল, ছয় পর্যটকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথ রকেট উৎক্ষেপণ, মহাকাশ খাতে নতুন দিগন্ত হলিউডে ১১১ বিলিয়ন ডলারের একীভূতকরণ নিয়ে আইনি ঝড়, বড় চুক্তি ঠেকাতে মাঠে ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত গণতন্ত্রের বিতর্ক, ভোটারদের ওপর বাড়ছে সিদ্ধান্তের চাপ

১৪ উড়োজাহাজ কেনার পথে বাংলাদেশ, ২০৩৫ সালের আগে বহর বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার পথে নিতে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্মাতা বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন। সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

যাত্রী বাড়ছে, সক্ষমতা বাড়ছে না

উপদেষ্টা জানান, গত বছর দেশের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করেছেন ৬০ লাখের বেশি যাত্রী। কিন্তু সীমিত বহরের কারণে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা বহন করতে পেরেছে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী। বর্তমানে উড্ডয়নযোগ্য উড়োজাহাজ রয়েছে মাত্র ১৪টি, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রয়োজন হবে অন্তত ৪৭টি উড়োজাহাজ।

নতুন ১৪ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও দরকষাকষি

তিনি বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে আপাতত ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে কারিগরি ও অর্থনৈতিক তুলনামূলক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দল বোয়িংয়ের সঙ্গে মূল্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রক্রিয়া সফল হলে ক্রয় চূড়ান্ত হবে, না হলে তা সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যয়, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের হিসাব

উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ কেনায় মোট ব্যয় হতে পারে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা ১০ থেকে ২০ বছরে পরিশোধ করা যাবে। সে হিসাবে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করলেই চলবে। তিনি আরও জানান, আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। উচ্চ শুল্কের কারণে প্রায় সাত লাখ কর্মসংস্থান বা এক লাখ কোটি টাকার ব্যবসা ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এ কারণেই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ভারতের মতো দেশ যেখানে শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্রয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Sk Bashir assigned additional role of aviation and tourism

বহর সংকট ও ভবিষ্যৎ রুট

বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব নাসরীন জাহান বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থার বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে চারটি উড়োজাহাজ অবসরে যাবে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত না হলে বিদ্যমান রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনাই কঠিন হয়ে পড়বে, নতুন রুট চালু করা তো দূরের কথা। এ বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের কাছ থেকেই প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে এবং কারিগরি ও আর্থিক বিশ্লেষণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সমালোচনার জবাব

কিছু মহলে পরিকল্পনাটিকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বলা হলেও সচিব জানান, এই প্রক্রিয়া ২০২৪ সাল থেকেই চলমান এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের নতুন অর্থনৈতিক কৌশল, অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকেই আয়ের পথ খুঁজছে প্রশাসন

১৪ উড়োজাহাজ কেনার পথে বাংলাদেশ, ২০৩৫ সালের আগে বহর বাড়ানোর বড় পরিকল্পনা

১২:২৭:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার পথে নিতে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্মাতা বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা এস কে বশির উদ্দিন। সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

যাত্রী বাড়ছে, সক্ষমতা বাড়ছে না

উপদেষ্টা জানান, গত বছর দেশের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করেছেন ৬০ লাখের বেশি যাত্রী। কিন্তু সীমিত বহরের কারণে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা বহন করতে পেরেছে প্রায় ২০ লাখ যাত্রী। বর্তমানে উড্ডয়নযোগ্য উড়োজাহাজ রয়েছে মাত্র ১৪টি, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রয়োজন হবে অন্তত ৪৭টি উড়োজাহাজ।

নতুন ১৪ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও দরকষাকষি

তিনি বলেন, ২০২৪ সাল থেকেই ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে আপাতত ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা চলছে। বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে কারিগরি ও অর্থনৈতিক তুলনামূলক সমীক্ষা সম্পন্ন হয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নেতৃত্বে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের দল বোয়িংয়ের সঙ্গে মূল্য নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রক্রিয়া সফল হলে ক্রয় চূড়ান্ত হবে, না হলে তা সম্ভব হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যয়, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের হিসাব

উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি। প্রস্তাবিত উড়োজাহাজ কেনায় মোট ব্যয় হতে পারে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা ১০ থেকে ২০ বছরে পরিশোধ করা যাবে। সে হিসাবে বছরে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করলেই চলবে। তিনি আরও জানান, আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৭ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। উচ্চ শুল্কের কারণে প্রায় সাত লাখ কর্মসংস্থান বা এক লাখ কোটি টাকার ব্যবসা ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এ কারণেই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ভারতের মতো দেশ যেখানে শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্রয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের আলোচনা তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Sk Bashir assigned additional role of aviation and tourism

বহর সংকট ও ভবিষ্যৎ রুট

বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব নাসরীন জাহান বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থার বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে চারটি উড়োজাহাজ অবসরে যাবে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত না হলে বিদ্যমান রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনাই কঠিন হয়ে পড়বে, নতুন রুট চালু করা তো দূরের কথা। এ বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি বহর ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের কাছ থেকেই প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে এবং কারিগরি ও আর্থিক বিশ্লেষণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সমালোচনার জবাব

কিছু মহলে পরিকল্পনাটিকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বলা হলেও সচিব জানান, এই প্রক্রিয়া ২০২৪ সাল থেকেই চলমান এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ। একই সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।