০১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ত্রিশালে সুসেন চন্দ্র সরকারকে কুপিয়ে হত্যা, শাটার নামিয়ে পালাল দুর্বৃত্ত বিএনপি নেতার হুমকি: ১২ তারিখের পরে হিসাব হবে ‘মুসলমান হয়ে আমরা কি কোনো অপরাধ করে ফেলেছি’, প্রশ্ন আসামের মিঞাঁ মুসলমানদের ইরানে নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মাদির ছয় বছরের কারাদণ্ড, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাসনের আদেশ শুল্ক কমল, নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সমঝোতায় নতুন বার্তা, শুল্ক কমানোয় জোর দিলেন দূত সের্গিও গোর তালহা আনজুমের বাগদান নিশ্চিত, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে জল্পনার অবসান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত বদলাতে পাকিস্তানকে আহ্বান বাংলাদেশের ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি পাকিস্তান, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নাটকীয় মোড় ভারতের জ্বালানি নীতি স্পষ্ট, একক উৎস নয় বহু উৎসেই ভরসা

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স প্রত্যাবাসন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ, ভাষান্তর ও আইনি সহায়তার ঘাটতির অভিযোগ

যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অভিবাসীরা পর্যাপ্ত ভাষান্তর সেবা, আইনি পরামর্শ ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পড়েছেন বলে নতুন এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ‘একজন ঢুকলে একজন বের’ নীতির আওতায় নভেম্বর মাসে যাদের একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই প্রস্তাবিত ভাষান্তরের ভাষা বুঝতেন না।

ভাষা ও তথ্যের সংকটে বাড়ছে উৎকণ্ঠা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফেরত পাঠানো বিশজন অভিবাসীকে আরবি ও ফরাসি ভাষাভাষী অনুবাদক দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই ওই ভাষা জানতেন। ফলে তারা ফ্রান্সে নেওয়া হচ্ছে—এ তথ্য জানলেও সেখানে পৌঁছে তাদের সঙ্গে কী ঘটবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাননি। এই অনিশ্চয়তা অনেকের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

World News: Migrants deported under UK-France scheme lacked translators and  advice, report says

আইনি সহায়তা পেলেও কার্যকর হয়নি

অভিবাসীদের কিছু আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাদের মামলা নিতে আগ্রহ দেখাননি। এতে প্রত্যাবাসনের পর তাদের অধিকার রক্ষার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুক্তির উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স চুক্তি অনুযায়ী, ছোট নৌকায় করে ব্রিটেনে পৌঁছানো কাউকে আটক করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো যায় এবং একই সংখ্যক অভিবাসীকে ফ্রান্স থেকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ঘোষিত লক্ষ্য হলো বিপজ্জনক ও অনিয়মিত চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নিরুৎসাহিত করা।

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার উদ্বেগ

First arrivals in UK under 'one in one out' deal

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কল্যাণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায় এবং মর্যাদা বজায় রেখে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাদের মতে, আটক ব্যক্তিদের ২৬টি ভাষায় তথ্যপত্র সরবরাহ করা হয়।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নীতি ইচ্ছামতো প্রয়োগযোগ্য, যথাযথ প্রক্রিয়াবিহীন এবং অভিবাসীদের সুস্থতা উপেক্ষা করে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ আগেই এই কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংখ্যার হিসাব

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে জানান, এই ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত ৩০৫ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে সরানো হয়েছে এবং ৩৬৭ জনকে ফ্রান্স থেকে আনা হয়েছে।

Report flags flaws in UK-France migrant deportations

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রিশালে সুসেন চন্দ্র সরকারকে কুপিয়ে হত্যা, শাটার নামিয়ে পালাল দুর্বৃত্ত

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স প্রত্যাবাসন চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ, ভাষান্তর ও আইনি সহায়তার ঘাটতির অভিযোগ

১১:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অভিবাসীরা পর্যাপ্ত ভাষান্তর সেবা, আইনি পরামর্শ ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পড়েছেন বলে নতুন এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ‘একজন ঢুকলে একজন বের’ নীতির আওতায় নভেম্বর মাসে যাদের একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই প্রস্তাবিত ভাষান্তরের ভাষা বুঝতেন না।

ভাষা ও তথ্যের সংকটে বাড়ছে উৎকণ্ঠা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফেরত পাঠানো বিশজন অভিবাসীকে আরবি ও ফরাসি ভাষাভাষী অনুবাদক দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই ওই ভাষা জানতেন। ফলে তারা ফ্রান্সে নেওয়া হচ্ছে—এ তথ্য জানলেও সেখানে পৌঁছে তাদের সঙ্গে কী ঘটবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাননি। এই অনিশ্চয়তা অনেকের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

World News: Migrants deported under UK-France scheme lacked translators and  advice, report says

আইনি সহায়তা পেলেও কার্যকর হয়নি

অভিবাসীদের কিছু আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাদের মামলা নিতে আগ্রহ দেখাননি। এতে প্রত্যাবাসনের পর তাদের অধিকার রক্ষার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুক্তির উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা

যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স চুক্তি অনুযায়ী, ছোট নৌকায় করে ব্রিটেনে পৌঁছানো কাউকে আটক করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো যায় এবং একই সংখ্যক অভিবাসীকে ফ্রান্স থেকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ঘোষিত লক্ষ্য হলো বিপজ্জনক ও অনিয়মিত চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নিরুৎসাহিত করা।

সরকারি প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার উদ্বেগ

First arrivals in UK under 'one in one out' deal

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কল্যাণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায় এবং মর্যাদা বজায় রেখে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাদের মতে, আটক ব্যক্তিদের ২৬টি ভাষায় তথ্যপত্র সরবরাহ করা হয়।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নীতি ইচ্ছামতো প্রয়োগযোগ্য, যথাযথ প্রক্রিয়াবিহীন এবং অভিবাসীদের সুস্থতা উপেক্ষা করে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ আগেই এই কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সংখ্যার হিসাব

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে জানান, এই ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত ৩০৫ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে সরানো হয়েছে এবং ৩৬৭ জনকে ফ্রান্স থেকে আনা হয়েছে।

Report flags flaws in UK-France migrant deportations