যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অভিবাসীরা পর্যাপ্ত ভাষান্তর সেবা, আইনি পরামর্শ ও পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পেয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পড়েছেন বলে নতুন এক পরিদর্শন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ‘একজন ঢুকলে একজন বের’ নীতির আওতায় নভেম্বর মাসে যাদের একটি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের বেশিরভাগই প্রস্তাবিত ভাষান্তরের ভাষা বুঝতেন না।
ভাষা ও তথ্যের সংকটে বাড়ছে উৎকণ্ঠা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফেরত পাঠানো বিশজন অভিবাসীকে আরবি ও ফরাসি ভাষাভাষী অনুবাদক দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে খুব কম মানুষই ওই ভাষা জানতেন। ফলে তারা ফ্রান্সে নেওয়া হচ্ছে—এ তথ্য জানলেও সেখানে পৌঁছে তাদের সঙ্গে কী ঘটবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাননি। এই অনিশ্চয়তা অনেকের মানসিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আইনি সহায়তা পেলেও কার্যকর হয়নি
অভিবাসীদের কিছু আইনজীবী প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অনেকেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তাদের মামলা নিতে আগ্রহ দেখাননি। এতে প্রত্যাবাসনের পর তাদের অধিকার রক্ষার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
চুক্তির উদ্দেশ্য ও বাস্তবতা
যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স চুক্তি অনুযায়ী, ছোট নৌকায় করে ব্রিটেনে পৌঁছানো কাউকে আটক করে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো যায় এবং একই সংখ্যক অভিবাসীকে ফ্রান্স থেকে বৈধ পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ঘোষিত লক্ষ্য হলো বিপজ্জনক ও অনিয়মিত চ্যানেল পাড়ি দেওয়া নিরুৎসাহিত করা।
সরকারি প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কল্যাণ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায় এবং মর্যাদা বজায় রেখে আটক ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাদের মতে, আটক ব্যক্তিদের ২৬টি ভাষায় তথ্যপত্র সরবরাহ করা হয়।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই নীতি ইচ্ছামতো প্রয়োগযোগ্য, যথাযথ প্রক্রিয়াবিহীন এবং অভিবাসীদের সুস্থতা উপেক্ষা করে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ আগেই এই কর্মসূচি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংখ্যার হিসাব
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত সপ্তাহে জানান, এই ব্যবস্থার আওতায় এখন পর্যন্ত ৩০৫ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে সরানো হয়েছে এবং ৩৬৭ জনকে ফ্রান্স থেকে আনা হয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















