শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলতে শেষ পর্যন্ত সম্মত হয়েছে পাকিস্তান। আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দেশটির সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দলকে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়ায় বহুল আলোচিত এই দ্বৈরথ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা
গত সপ্তাহে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ দেখিয়ে গ্রুপ পর্বের এই ম্যাচ বয়কটের নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে ই এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, কারণ নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোয় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড অংশ নেয়। তবে বহুপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের অনুরোধের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক বার্তা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানকে বয়কট সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক সদস্য দেশের পক্ষ থেকেও অচলাবস্থা নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার অনুরোধ আসে। এসব কূটনৈতিক যোগাযোগ ই শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের অবস্থান বদলে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ম্যাচের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব
পাকিস্তান ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ালে তারা পয়েন্ট হারানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টও বড় ধাক্কায় পড়ত, কারণ ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথকে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে ধরা হয়। ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব আগেই জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত যাই হোক নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তাদের দল কলম্বো যাবে।

রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া ক্রিকেটে
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নয়াদিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদ ও ঢাকার সম্পর্ক অবনতির ফলে সেই প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতের অভিজ্ঞতা হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। অন্যদিকে সহিংস বিক্ষোভের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক ও টানাপোড়েনে পড়ে।
বিশ্বকাপে ভারতের লক্ষ্য
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দুই দল মুখোমুখি হওয়ার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা ভারত এবার শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি স্বাগতিক হিসেবে শিরোপা জয়ের ইতিহাস গড়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















