উত্তর বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকে আবারো এক অপ্রত্যাশিত রাজনৈতিক ঘটনার ছবি সামনে এসেছে। শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নে নেতৃস্থানীয় বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়া হয়েছে, যা নিয়ে রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটির ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই লোকজন একদিকে নানা ধরনের মতামত ব্যক্ত করছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমালোচনা ও প্রশ্নও তুলছেন।
ঘটনাটি শুক্রবার সকালে ঘটে যখন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান উপস্থিত থেকে চাকলাহাট ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খুলেছেন। কর্মকর্তারা ও স্থানীয় সূত্রের মতে, এই কার্যালয়টি কয়েকদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল, যা পরে খুলে দেওয়া হয়। মুসলিম দলের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটও ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং তিনি ভিডিওতে বক্তব্য রাখেন। এই ভিন্নধারার ঘটনার ভিডিও শর্ট ভিডিও ক্লিপ হিসেবে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আপাতত ওই কার্যালয়ে চালানোর পরিকল্পনা নেই বলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জানান। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন এই কার্যালয়টি লোকজনের উপস্থিতিতে খোলা হয়েছে এবং আপাতত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে, রাজনৈতিক সত্তার জন্য নয় বলে তার মন্তব্য প্রকাশ পায়।
আবু দাউদ প্রধান নিজেই দাবি করেছেন, তিনি প্রথমে বুঝতে পাননি যে এটি আওয়ামী লীগের কার্যালয় ছিল। তিনি বলেন, তিনি শুধুমাত্র এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কার্যক্রম করেছেন এবং এটি কোন দলীয় সিদ্ধান্ত নয়। তিনি আরও বলেন, পূর্বে জামাত-এ-ইসলামী এক শ্রেণীর কর্মীরা এই কার্যালয়ের তালা দিয়েছিল বলে তিনি মনে করেন।
এই ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কার্যালয় খোলা কি সঠিক উদ্যোগ। পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক মহলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার সমালোচনা ও সমর্থন উভয়ই মিলছে। কেউ এটিকে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বলে ব্যাখ্যা করছেন, কেউ ইহাকে দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে নেওয়া উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনার পটভূমিতে পঞ্চগড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় মতাদর্শের দিক দিয়ে আগাম দিনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















