০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বগুড়ার শেরপুরে বাসের ধাক্কায় ফায়ার স্টেশনে ঢুকে নিহত ফায়ারফাইটার বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে আসছে অরেঞ্জ বন্ড ও সুকুক রমজানে মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ তিতাস এলাকায় গ্যাসের তীব্র চাপ সংকট, ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ভোগান্তির আশঙ্কা প্রাইম ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হাসান ও. রশিদের পদত্যাগ, কার্যকর হবে ৩১ মার্চ ২০২৬ সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষ: ৫ শতাধিকের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩ নতুন সরকারের অধীনে ছয় মাসেই ঘুরে দাঁড়াতে পারে পুঁজিবাজার: বিসিআইএ’র প্রত্যাশা অসমে কংগ্রেসের অবহেলা: প্রধানমন্ত্রী মোদির তীব্র প্রতিপক্ষী আক্রমণ ও উন্নয়নের অঙ্গীকার ইমরান খানের চোখ পরীক্ষা করবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ধীরে ধীরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ জামায়াতে ইসলামি ও জামিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম ফাজল সরকারের কাছে গাজার শান্তি বোর্ড বৈঠক এড়াতে আহ্বান

আমর একুশে বইমেলা ২০২৬: রমজানে শুরু নিয়ে প্রকাশকদের বিতর্ক

বাংলাদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের প্রতীক্ষিত আয়োজন, আমার একুশে বইমেলা ২০২৬, নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে। তবে রমজান মাসে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ৩০০-এর বেশি প্রকাশক ইতিমধ্যেই মেলার বয়কটের হুমকি দিয়েছেন, আর মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি তাদের সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

প্রস্তুতি সম্পন্ন, স্টল বরাদ্দ চূড়ান্ত

ডক্টর মোঃ সেলিম রেজা, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব, জানান, স্টল ও প্যাভিলিয়নের লটারি সম্পন্ন হয়েছে এবং বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়েছে। এবার মোট ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১৩৩টি বেশি। নতুন ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও প্রথমবারের মতো স্টল পেয়েছে। মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ২৩টি, যার মধ্যে ১১টি স্থাপিত এবং ১২টি নতুন প্রকাশকের জন্য। স্টল বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য বাংলা একাডেমি পেমেন্টের সময়সীমা ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।

প্রকাশকদের বয়কট হুমকি

রমজান মাসে মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশকরা প্রবল আপত্তি তুলেছেন। অসংখ্য প্রকাশক জানিয়েছেন, দিনের কাজের সময় কমে যাওয়া এবং ভোক্তা ব্যয়ের হ্রাস বই বিক্রির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকাশকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সমতুল্য হবে।

তারিক রহমানের কাছে প্রকাশক মহলের আবেদন

প্রকাশক সংস্থা প্রকাশক ঐক্য তারিক রহমানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করেন রমজান মাসে মেলায় অংশ নেওয়া ‘বাণিজ্যিক আত্মহত্যা’র সমান। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত এক বছর ধরে শিল্পক্ষেত্রে চাপ বেড়েছে। কাগজের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচও প্রকাশকদের আর্থিক দিক থেকে আরও দুর্বল করেছে।

মেলার সাফল্যের জন্য স্থগিতকরণের প্রস্তাব

প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বইমেলার বিরোধী নয়। বরং তারা চান একটি সফল ও সমন্বিত অনুষ্ঠান, যা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ধরে রাখবে। তারা প্রস্তাব করেছেন, রমজান ও নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মেলা ঈদের পর আয়োজন করা হোক। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করলে প্রকাশনা শিল্পের বড় ক্ষতি রোধ হবে এবং আমার একুশে বইমেলার ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।

বর্তমানে, মেলার আয়োজন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহ্য রক্ষার সংঘর্ষের মঞ্চ তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ার শেরপুরে বাসের ধাক্কায় ফায়ার স্টেশনে ঢুকে নিহত ফায়ারফাইটার

আমর একুশে বইমেলা ২০২৬: রমজানে শুরু নিয়ে প্রকাশকদের বিতর্ক

০৭:১৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের প্রতীক্ষিত আয়োজন, আমার একুশে বইমেলা ২০২৬, নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারি ২০ তারিখে। তবে রমজান মাসে মেলার আয়োজন নিয়ে প্রকাশক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। ৩০০-এর বেশি প্রকাশক ইতিমধ্যেই মেলার বয়কটের হুমকি দিয়েছেন, আর মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি তাদের সিদ্ধান্তে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

প্রস্তুতি সম্পন্ন, স্টল বরাদ্দ চূড়ান্ত

ডক্টর মোঃ সেলিম রেজা, আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব, জানান, স্টল ও প্যাভিলিয়নের লটারি সম্পন্ন হয়েছে এবং বরাদ্দ চূড়ান্ত হয়েছে। এবার মোট ৬৬২টি স্টল বরাদ্দ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ১৩৩টি বেশি। নতুন ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানও প্রথমবারের মতো স্টল পেয়েছে। মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ২৩টি, যার মধ্যে ১১টি স্থাপিত এবং ১২টি নতুন প্রকাশকের জন্য। স্টল বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য বাংলা একাডেমি পেমেন্টের সময়সীমা ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।

প্রকাশকদের বয়কট হুমকি

রমজান মাসে মেলার আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রকাশকরা প্রবল আপত্তি তুলেছেন। অসংখ্য প্রকাশক জানিয়েছেন, দিনের কাজের সময় কমে যাওয়া এবং ভোক্তা ব্যয়ের হ্রাস বই বিক্রির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকাশকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির সমতুল্য হবে।

তারিক রহমানের কাছে প্রকাশক মহলের আবেদন

প্রকাশক সংস্থা প্রকাশক ঐক্য তারিক রহমানের কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করেন রমজান মাসে মেলায় অংশ নেওয়া ‘বাণিজ্যিক আত্মহত্যা’র সমান। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত এক বছর ধরে শিল্পক্ষেত্রে চাপ বেড়েছে। কাগজের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচও প্রকাশকদের আর্থিক দিক থেকে আরও দুর্বল করেছে।

মেলার সাফল্যের জন্য স্থগিতকরণের প্রস্তাব

প্রকাশকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা বইমেলার বিরোধী নয়। বরং তারা চান একটি সফল ও সমন্বিত অনুষ্ঠান, যা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিকে ধরে রাখবে। তারা প্রস্তাব করেছেন, রমজান ও নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে মেলা ঈদের পর আয়োজন করা হোক। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন সরকার এই প্রস্তাবকে গ্রহণ করলে প্রকাশনা শিল্পের বড় ক্ষতি রোধ হবে এবং আমার একুশে বইমেলার ঐতিহ্য রক্ষা পাবে।

বর্তমানে, মেলার আয়োজন নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আয়োজক ও প্রকাশকদের মধ্যে অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহ্য রক্ষার সংঘর্ষের মঞ্চ তৈরি করছে।