খুলনায় আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ও শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনার জেরে রাতেই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিকেলে ফুলেল শ্রদ্ধা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান—এর কয়েক ঘণ্টা পরই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

শ্রদ্ধা নিবেদন ও পতাকা উত্তোলন
রবিবার বিকেল প্রায় চারটার দিকে খুলনা শহরের শাঁখা মার্কেট এলাকায় অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর কার্যালয়ে ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে প্রবেশ করেন। তারা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং স্লোগান দেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কার্যালয়টি আগে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। কিছুক্ষণ অবস্থান করে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে তাদের এই কর্মসূচির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতিবাদ ও অগ্নিসংযোগ
রাতে এই ঘটনার প্রতিবাদে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভে নামেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের নেতৃত্বে প্রতিবাদ সংগঠিত হয় বলে জানা গেছে। বিক্ষুব্ধরা কার্যালয়ে প্রবেশ করে কাঠের দরজা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন। দুটি টাঙানো প্রতিকৃতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুন কিছু সময় পর নিজেই নিভে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
পুলিশের বক্তব্য
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কবির হোসেন জানান, বিকেলে একটি দল কার্যালয় খুলেছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ আশপাশের স্থাপনা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা শুরু করেছে। জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার পর উত্তেজিত কিছু শিক্ষার্থী এসে কার্যালয়ে আগুন দেয়, এতে ভেতরের প্রতিকৃতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দলীয় নির্দেশনা ছিল না
কয়েকজন আওয়ামী লীগ কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ কর্মসূচি দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ছিল না। তারা ব্যক্তিগত উদ্যোগেই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।
খুলনায় এ ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















