জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক যোগাযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই তিনি সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে। টানা দুই বৈঠকে ভবিষ্যৎ সরকার ও রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বেইলি রোডে নাহিদের বাসায় তারেক
রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকায় নাহিদ ইসলামের বাসভবনে পৌঁছান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ব্যাপক বিজয়ের পর নতুন সরকার গঠনের মাত্র দুই দিন আগে এই সাক্ষাৎকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, তারেককে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে স্বাগত জানান নাহিদ ইসলাম। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলমও সেখানে ছিলেন।

এর আগে জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠক
এর আগে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসভবনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানেও তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।
ওই বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক অ্যাডভোকেট আহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতারা এই সাক্ষাৎকে নির্বাচনের পর ইতিবাচক রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
ঐক্যের আহ্বানের পর ধারাবাহিক যোগাযোগ

এই দুই বৈঠক এমন এক সময়ে হলো, যখন তারেক রহমান সব রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার গঠনের আগে বিরোধী ও মিত্র শক্তির সঙ্গে তার এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ফল ও নতুন সমীকরণ
বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। একই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি পেয়েছে ৬টি আসন। সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের আগে বিস্তৃত রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















