চীনের প্রযুক্তি সংস্থা বাইটডান্স টিকটক অ্যাপের বিশ্বজনীন সাফল্যের পর এবার পুরো দিশা পরিবর্তন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্ষেত্রে এগিয়ে চলেছে। কোম্পানিটি নতুন চ্যাটবট ডুভবাও ২.০ এবং ভিডিও জেনারেটর সিড্যান্স ২.০ চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বাইটডান্সের এআই উদ্ভাবন
ডুভবাও ২.০ চ্যাটবট ২০২৩ সালে চালু হওয়ার পর থেকেই ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিন ১০০ মিলিয়নেরও বেশি পৌঁছেছে। এটি শুধু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কাজেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ব্যবসায়িক গবেষণা, বাজার বিশ্লেষণ এবং গ্রাহক সেবা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সিড্যান্স ২.০ ভিডিও জেনারেটর ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা সহজে স্বয়ংক্রিয় ভিডিও তৈরি করতে পারছে। এই প্রযুক্তি বাইটডান্সকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও শক্তিশালী করেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে চ্যালেঞ্জ
যদিও বাইটডান্সের এআই সেবা দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে, তবুও বিদেশি বাজারে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডেটা সুরক্ষা, ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার এবং প্রতিযোগিতার চাপ এ ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিয়ন্ত্রক দিক থেকে কিছু কঠোর নির্দেশনা থাকায় কোম্পানিকে তার সেবা আরও নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে হবে।
স্থানীয় প্রতিযোগিতা ও ব্যবহারকারীর সুবিধা
চীনের অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন টেনসেন্ট ও আলিবাবা তাদের নিজস্ব চ্যাটবট এবং এআই সেবা বাড়াচ্ছে। এই কঠোর প্রতিযোগিতার মাঝেও বাইটডান্স ডুভবাও ২.০-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। ছোট ব্যবসায়ীরা এবং উদ্যোক্তারা এই এআই সেবা ব্যবহার করে তাদের উৎপাদন, বাজার গবেষণা এবং বিক্রয় পরিকল্পনা অনেক সহজভাবে করতে পারছেন।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য
বাইটডান্সের সিইও জানিয়েছেন, তারা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হচ্ছে। তারা ডুভবাও ২.০ এবং সিড্যান্স ২.০-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক-এর মতো সাফল্য পুনরায় অর্জনের পরিকল্পনা করছে। এআই-এর মাধ্যমে কোম্পানি নতুন উদ্ভাবন, দ্রুত কর্মক্ষমতা এবং ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে চায়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















