বাংলাদেশের নতুন নির্বাচিত সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিদেশি ঋণের চাপকে উল্লেখ করেছেন অর্থনীতিবিদ দেবাপ্রিয় ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করেছেন, দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে প্রশাসনকে অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।
মোহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ আয়োজিত ‘নতুন সরকারের শুরু: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে দেবাপ্রিয় বলেন, “অস্থায়ী সরকারের মেয়াদেও বিদেশি ঋণের বোঝা কমেনি। বাংলাদেশের অবস্থান বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল। এই মুহূর্তে কোনো লোকমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই।”

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বাজেটীয় শৃঙ্খলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। “এটিকে কঠোরতা বলা যায় না, তবে শৃঙ্খলা অপরিহার্য। বাজেট নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি এবং অন্যান্য মাইক্রো-অর্থনৈতিক দুর্বলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
দেবাপ্রিয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “১৩তম জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের ফলে এখন সরকার যথেষ্ট রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর করতে পারে। বর্তমান সংকট থেকে অর্থনীতিকে বের করার জন্য একটি ট্রানজিশন টিম গঠন করা উচিত। এই দল প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বিস্তারিত ব্রিফ তৈরি করতে পারবে, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।”
তিনি অস্থায়ী সরকারের সময় স্বাক্ষরিত ক্রয় ও বৈদেশিক চুক্তিগুলোও পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান। “অনেক চুক্তি জনগণের কাছে সুপরিচিত নয়। পরীক্ষা করা উচিত কোনো নিয়ম বা প্রক্রিয়া লঙ্ঘন হয়েছে কি না। সমস্ত চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে।”

দেবাপ্রিয় স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধান হিসেবে অর্থ মুদ্রণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি গঠনমূলক সংস্কার ও সতর্ক ম্যাক্রো-অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি সিপিডি-র বিশেষ ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















