০২:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
গৃহকর্মীর অধিকার আইন: স্বীকৃতির শুরু, শোষণের শেষ নয় ইউএইতে সিঙ্গেল মাদারের ভাগ্যবদল, ষষ্ঠ টিকিটেই জিতলেন ১০ লাখ দিরহাম ইরান যুদ্ধ ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রস্তুত ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে নতুন উত্তেজনা সোভিয়েত স্থাপত্য মুছে যাচ্ছে মধ্য এশিয়া থেকে, নতুন পরিচয় গঠনে ব্যস্ত রাষ্ট্রগুলো ভারতে ডেঙ্গু টিকার শেষ ধাপের পরীক্ষা, এক ডোজেই মিলতে পারে সুরক্ষা উত্তর থাইল্যান্ডে বিষাক্ত ধোঁয়ার দাপট, রক্ত ঝরছে নাক থেকে, বিপর্যস্ত জনজীবন চীনের আফ্রিকা কৌশল: বাণিজ্যের আড়ালে নতুন ভূরাজনৈতিক মানচিত্র ২৭ মে আরব আমিরাতে পালিত হতে পারে ২০২৬ সালের ঈদুল আজহা পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতা, গ্রেপ্তার ৪০০-এর বেশি বিজয়ের মধ্যে ‘ঘর’ খুঁজে পেয়েছিলেন তৃষা, পুরনো সাক্ষাৎকার ঘিরে নতুন আলোচনা

ভারত–মার্কিন ও ইইউ বাণিজ্য চুক্তি: কাশ্মীরের আপেল শিল্পে ‘মৃত্যুঘণ্টা’ আশঙ্কা

ভারত–মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে জম্মু ও কাশ্মীরের আপেল শিল্পে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে স্থানীয় উৎপাদকরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা আমদানি বাজার দখল করলে কাশ্মীরের আপেল চাষ বড় ধাক্কায় পড়বে।

ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা আপেলের ওপর মৌলিক শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ২৫% করেছে। যদিও ন্যূনতম আমদানি মূল্য (এমআইপি) কেজিপ্রতি ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ট্যারিফ রেট কোটার (TRQ) ভিত্তিতে বছরে ৫০ হাজার টন আপেল ২০% শুল্কে আমদানি করা যাবে। আগামী ১০ বছরে এই কোটাকে এক লাখ টনে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে।

India's apple growers fear trade deals may cost them dear

জম্মু ও কাশ্মীরে আপেল শিল্প কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

জে&কে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট উদ্যানতাত্ত্বিক উৎপাদনের ৫০% আসে আপেল থেকে। বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব তৈরি হয় এই খাত থেকে। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, যা প্রায় সাত লাখ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৪ সালে জে&কে-তে আপেল উৎপাদন ছিল ২১ লাখ মেট্রিক টন। দেশের মোট আপেল উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি আসে এখান থেকে। আপেল ভারতের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ফল ফসল।

কেন আশঙ্কা বাড়ছে?

কাশ্মীরের চাষিরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। সেখানে গড়ে ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণে চাষ হয়, আর জে&কে-তে গড় জমির পরিমাণ মাত্র ০.৪০ হেক্টর। ভারতে যেখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৭–৮ টন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড বা চীনে তা ৪০–৭০ টন পর্যন্ত।

We can't compete': India-US trade deal raises stakes for Kashmir's Rs  10,000 crore apple economy | India News - The Indian Express

উন্নত প্রযুক্তি, এআই-নির্ভর ছাঁটাই ও সংগ্রহ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ‘গালা’ আপেল—এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো এগিয়ে। ফলে কম দামে উন্নত মানের আপেল ভারতীয় বাজারে ঢুকলে স্থানীয় উৎপাদকরা চাপে পড়বেন।

অফ-সিজন দামে কী প্রভাব পড়বে?

কাশ্মীরে বর্তমানে ৯২টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ৩৯৭ লাখ মেট্রিক টন আপেল সংরক্ষণ করা হয়। চাষিরা ও ব্যবসায়ীরা এই অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করেছেন। শুল্ক কমলে নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের তাজা আপেল কম দামে বাজারে ঢুকবে, যা কোল্ড স্টোরেজে রাখা স্থানীয় আপেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে অফ-সিজন মূল্যস্থিতি ভেঙে পড়বে এবং কৃষকরা আবার ‘ডিস্ট্রেস সেল’-এ বাধ্য হবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি কী?

Kashmiri Apple Enters More Challenging Market After India's Tax Concessions  To New Zealand

জে&কের রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রের কাছে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। আপেলকে বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রাখার আহ্বান উঠেছে। উচ্চ-ঘনত্ব চাষে সুদমুক্ত ঋণ, কোল্ড স্টোরেজ সম্প্রসারণ এবং ড্রাই পোর্ট প্রকল্প দ্রুত চালুর দাবিও তোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতারা সতর্ক করেছেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই চুক্তি উদ্যানতাত্ত্বিক খাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, সস্তা আমদানির আগে উৎপাদনশীলতা ও মানোন্নয়নে বিনিয়োগ জরুরি।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গৃহকর্মীর অধিকার আইন: স্বীকৃতির শুরু, শোষণের শেষ নয়

ভারত–মার্কিন ও ইইউ বাণিজ্য চুক্তি: কাশ্মীরের আপেল শিল্পে ‘মৃত্যুঘণ্টা’ আশঙ্কা

০৬:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারত–মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে জম্মু ও কাশ্মীরের আপেল শিল্পে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে স্থানীয় উৎপাদকরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা আমদানি বাজার দখল করলে কাশ্মীরের আপেল চাষ বড় ধাক্কায় পড়বে।

ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা আপেলের ওপর মৌলিক শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ২৫% করেছে। যদিও ন্যূনতম আমদানি মূল্য (এমআইপি) কেজিপ্রতি ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ট্যারিফ রেট কোটার (TRQ) ভিত্তিতে বছরে ৫০ হাজার টন আপেল ২০% শুল্কে আমদানি করা যাবে। আগামী ১০ বছরে এই কোটাকে এক লাখ টনে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে।

India's apple growers fear trade deals may cost them dear

জম্মু ও কাশ্মীরে আপেল শিল্প কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

জে&কে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট উদ্যানতাত্ত্বিক উৎপাদনের ৫০% আসে আপেল থেকে। বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব তৈরি হয় এই খাত থেকে। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, যা প্রায় সাত লাখ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

২০২৪ সালে জে&কে-তে আপেল উৎপাদন ছিল ২১ লাখ মেট্রিক টন। দেশের মোট আপেল উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি আসে এখান থেকে। আপেল ভারতের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ফল ফসল।

কেন আশঙ্কা বাড়ছে?

কাশ্মীরের চাষিরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। সেখানে গড়ে ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণে চাষ হয়, আর জে&কে-তে গড় জমির পরিমাণ মাত্র ০.৪০ হেক্টর। ভারতে যেখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৭–৮ টন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড বা চীনে তা ৪০–৭০ টন পর্যন্ত।

We can't compete': India-US trade deal raises stakes for Kashmir's Rs  10,000 crore apple economy | India News - The Indian Express

উন্নত প্রযুক্তি, এআই-নির্ভর ছাঁটাই ও সংগ্রহ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ‘গালা’ আপেল—এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো এগিয়ে। ফলে কম দামে উন্নত মানের আপেল ভারতীয় বাজারে ঢুকলে স্থানীয় উৎপাদকরা চাপে পড়বেন।

অফ-সিজন দামে কী প্রভাব পড়বে?

কাশ্মীরে বর্তমানে ৯২টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ৩৯৭ লাখ মেট্রিক টন আপেল সংরক্ষণ করা হয়। চাষিরা ও ব্যবসায়ীরা এই অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করেছেন। শুল্ক কমলে নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের তাজা আপেল কম দামে বাজারে ঢুকবে, যা কোল্ড স্টোরেজে রাখা স্থানীয় আপেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে অফ-সিজন মূল্যস্থিতি ভেঙে পড়বে এবং কৃষকরা আবার ‘ডিস্ট্রেস সেল’-এ বাধ্য হবেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি কী?

Kashmiri Apple Enters More Challenging Market After India's Tax Concessions  To New Zealand

জে&কের রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রের কাছে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। আপেলকে বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রাখার আহ্বান উঠেছে। উচ্চ-ঘনত্ব চাষে সুদমুক্ত ঋণ, কোল্ড স্টোরেজ সম্প্রসারণ এবং ড্রাই পোর্ট প্রকল্প দ্রুত চালুর দাবিও তোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতারা সতর্ক করেছেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই চুক্তি উদ্যানতাত্ত্বিক খাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, সস্তা আমদানির আগে উৎপাদনশীলতা ও মানোন্নয়নে বিনিয়োগ জরুরি।