ভারত–মার্কিন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিকে ঘিরে জম্মু ও কাশ্মীরের আপেল শিল্পে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে স্থানীয় উৎপাদকরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা আমদানি বাজার দখল করলে কাশ্মীরের আপেল চাষ বড় ধাক্কায় পড়বে।
ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা আপেলের ওপর মৌলিক শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ২৫% করেছে। যদিও ন্যূনতম আমদানি মূল্য (এমআইপি) কেজিপ্রতি ৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ট্যারিফ রেট কোটার (TRQ) ভিত্তিতে বছরে ৫০ হাজার টন আপেল ২০% শুল্কে আমদানি করা যাবে। আগামী ১০ বছরে এই কোটাকে এক লাখ টনে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীরে আপেল শিল্প কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
জে&কে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ অনুযায়ী, রাজ্যের মোট উদ্যানতাত্ত্বিক উৎপাদনের ৫০% আসে আপেল থেকে। বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব তৈরি হয় এই খাত থেকে। প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত, যা প্রায় সাত লাখ পরিবারের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০২৪ সালে জে&কে-তে আপেল উৎপাদন ছিল ২১ লাখ মেট্রিক টন। দেশের মোট আপেল উৎপাদনের ৭০ শতাংশের বেশি আসে এখান থেকে। আপেল ভারতের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ ফল ফসল।
কেন আশঙ্কা বাড়ছে?
কাশ্মীরের চাষিরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। সেখানে গড়ে ৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণে চাষ হয়, আর জে&কে-তে গড় জমির পরিমাণ মাত্র ০.৪০ হেক্টর। ভারতে যেখানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ৭–৮ টন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড বা চীনে তা ৪০–৭০ টন পর্যন্ত।

উন্নত প্রযুক্তি, এআই-নির্ভর ছাঁটাই ও সংগ্রহ পদ্ধতি, উন্নত জাতের ‘গালা’ আপেল—এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো এগিয়ে। ফলে কম দামে উন্নত মানের আপেল ভারতীয় বাজারে ঢুকলে স্থানীয় উৎপাদকরা চাপে পড়বেন।
অফ-সিজন দামে কী প্রভাব পড়বে?
কাশ্মীরে বর্তমানে ৯২টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ৩৯৭ লাখ মেট্রিক টন আপেল সংরক্ষণ করা হয়। চাষিরা ও ব্যবসায়ীরা এই অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ করেছেন। শুল্ক কমলে নিউজিল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশের তাজা আপেল কম দামে বাজারে ঢুকবে, যা কোল্ড স্টোরেজে রাখা স্থানীয় আপেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এতে অফ-সিজন মূল্যস্থিতি ভেঙে পড়বে এবং কৃষকরা আবার ‘ডিস্ট্রেস সেল’-এ বাধ্য হবেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি কী?
![]()
জে&কের রাজনৈতিক দলগুলো কেন্দ্রের কাছে চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে। আপেলকে বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রাখার আহ্বান উঠেছে। উচ্চ-ঘনত্ব চাষে সুদমুক্ত ঋণ, কোল্ড স্টোরেজ সম্প্রসারণ এবং ড্রাই পোর্ট প্রকল্প দ্রুত চালুর দাবিও তোলা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতারা সতর্ক করেছেন, সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এই চুক্তি উদ্যানতাত্ত্বিক খাতে বড় সংকট ডেকে আনতে পারে। তাদের মতে, সস্তা আমদানির আগে উৎপাদনশীলতা ও মানোন্নয়নে বিনিয়োগ জরুরি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















