তামিল সিনেমার জনপ্রিয় জুটি বিজয় ও তৃষা কৃষ্ণনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে পুরনো কয়েকটি সাক্ষাৎকার ঘিরে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যের পর অভিনেতা বিজয়কে নিয়ে যখন তামিলনাড়ু জুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে, তখনই সামনে এসেছে তৃষার সেই মন্তব্য, যেখানে তিনি বিজয়কে নিজের “ঘর” বলে বর্ণনা করেছিলেন।
২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া সুপারহিট সিনেমা ‘ঘিল্লি’ থেকেই বিজয়-তৃষা জুটির জনপ্রিয়তা শুরু। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করে তাঁরা তামিল সিনেমার অন্যতম আলোচিত অনস্ক্রিন জুটিতে পরিণত হন। তবে পর্দার বাইরেও তাঁদের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আগ্রহ রয়েছে ভক্তদের মধ্যে।
এক পুরনো টকশোতে তৃষা বলেছিলেন, শুটিং সেটে অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা যখন গল্প-আড্ডায় ব্যস্ত থাকতেন, তখন বিজয় এক কোণে চুপচাপ বসে থাকতেন। তিনি খুব কম কথা বলতেন এবং নিজের মধ্যেই ডুবে থাকতেন। তৃষার ভাষায়, বিজয় সবসময় শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং সেটে অযথা মিশতেন না।
সেই অনুষ্ঠানে বিজয় নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তিনি আসলে একা বসে পরবর্তী দৃশ্য নিয়ে ভাবতেন। অভিনয়ের প্রস্তুতি এবং চরিত্রে মনোযোগ দেওয়ার জন্যই তিনি নিরিবিলি সময় কাটাতে পছন্দ করতেন।
বন্ধুত্বের শুরু ‘ঘিল্লি’ থেকে
আরেক সাক্ষাৎকারে তৃষা জানান, ‘ঘিল্লি’ সিনেমার শুরুতে বিজয়ের সঙ্গে তাঁর খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না। কারণ বিজয় স্বভাবগতভাবেই শান্ত ও সংযত। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়।
তৃষা বলেন, বিজয়ের সঙ্গে করা চারটি সিনেমা—‘ঘিল্লি’, ‘থিরুপাচি’, ‘আধি’ ও ‘কুরুভি’—তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সফল কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে। তিনি বিজয়কে অত্যন্ত পেশাদার, ধৈর্যশীল ও ভদ্র মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাঁর কথায়, তিনি কখনও বিজয়কে মেজাজ হারাতে দেখেননি। সেটে নিজের কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করাই ছিল তাঁর প্রধান মনোযোগ। এই গুণই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তৃষা।
![]()
‘ঘর’ হয়ে ওঠার গল্প
দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২০২৩ সালে ‘লিও’ সিনেমায় আবারও একসঙ্গে দেখা যায় বিজয় ও তৃষাকে। সেই সিনেমার সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠানে তৃষা বলেন, বিজয়ের সঙ্গে আবার কাজ করা যেন স্কুলজীবনের কোনো পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হওয়ার মতো অনুভূতি।
তিনি জানান, তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে আগের মতোই ভালোবাসা, স্বস্তি ও বন্ধুত্ব রয়ে গেছে। নিজের ২০ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো সহ-অভিনেতার সঙ্গে এত দীর্ঘ সময়ের সম্পর্ক তাঁর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তৃষা।
সেই মঞ্চেই তৃষা একটি আবেগঘন মন্তব্য করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি বলেন, “মানুষ বলে, ঘর কোনো জায়গা নয়, একজন মানুষও হতে পারে।” আর সেই অনুভূতির সঙ্গে তিনি বিজয়কে যুক্ত করেছিলেন।
রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থানের এই সময়ে পুরনো সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যগুলো আবারও নতুনভাবে ভাইরাল হচ্ছে। অনুরাগীদের একাংশের মতে, এই কথাগুলো শুধু সহ-অভিনেতার প্রশংসা নয়, বরং বহু বছরের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















