প্রতিটি অস্কার স্ট্যাচুয়েটের পেছনে লুকিয়ে আছে মাসখানেকের পরিশ্রম, ধৈর্য ও শিল্পীর যত্ন। রক ট্যাভার্ন, নিউ ইয়র্কে অবস্থিত ইউএপি ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে প্রতিটি অস্কারের উৎপাদন প্রায় ছয় মাস সময় নিয়ে সম্পন্ন হয়। সাধারণ মানুষের ধারণার মতো এটি কোনো মেশিনে তৈরি নয়, বরং ডজনেরও বেশি কারিগরের হাতে হাতে তৈরি করা হয়।
উৎপাদনের জটিলতা
অস্কার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় মোমের মডেল দিয়ে, যা পরে সিরামিক ও সিলিকা বালির একটি কঠিন আবরণে ডুবানো হয়। এরপর মোম গলিয়ে তার জায়গায় ব্রোঞ্জ ঢালা হয়। শীতল হওয়ার পর সিরামিক আবরণ ভাঙা হয় এবং স্ত্যাচুয়েটটি পলিশ ও স্যান্ডিং করা হয়। ফিনিশিং টিমের প্রধান সালভাদর গুজম্যান জুনিয়র জানালেন, ঠোঁটের কাজ সবচেয়ে কঠিন, কারণ ছোট অথচ নিখুঁত হওয়া দরকার।

শিল্প ও যত্নের এক মিলন
প্রতিটি অস্কারকে প্রায় ১৩.৫ ইঞ্চি উচ্চ এবং ৮.৫ পাউন্ড ওজনে তৈরি করা হয়। এরপর ব্রোঞ্জের উপর সোনার পাত লাগানো হয় ব্রুকলিনের এপনার টেকনোলজিতে। উৎপাদন ব্যবস্থাপনা প্রধান ইভান গুডম্যানের মতে, “অস্কার তৈরি করতে এক পুরো গ্রাম্য প্রয়াস লাগে। এটি যে কোনো বড় ব্রোঞ্জ শিল্পকর্মের মতো যত্নের দাবি রাখে।”
হলিউডের স্পর্শ
কারিগররা জানায়, অস্কারের সঙ্গে কাজ করা হলিউডের একটি ছোট খণ্ডকে স্পর্শ করার সমান। জেক জয়েসের মতে, “প্রতিটি অস্কার যে কোনো এক শিল্পীর জন্য এক ইতিহাসের অংশ। এটি ধরতে পারা একটি বিরল অভিজ্ঞতা।” গুজম্যানও স্বপ্ন দেখেন একদিন একাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে উপস্থিত হবার।
অস্কারের এই উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখলে বোঝা যায়, প্রতিটি স্বর্ণপদক কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং শিল্প, ধৈর্য ও নকশার এক চমৎকার মিলন।


সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















