২৭ বছর কারাগারের অন্ধকারে কাটানোর পর আজ তিনি মুক্ত মানুষ। তবু অতীতের সেই বন্দিজীবন ভুলে যাননি। যুক্তরাষ্ট্রে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি হওয়া শিল্পী ভ্যালেনটিনো ডিকসন, যিনি বর্তমানে তারিক রমজান আবদুল্লাহ নামে পরিচিত, এবার রমজানে নিজের আঁকা ছবি নিলামে তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঋণগ্রস্ত বন্দিদের মুক্তিতে সহায়তা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
রমজানে মানবিক উদ্যোগ
তারিক রমজান আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, কারাগারে থাকার সময় যে কষ্ট তিনি অনুভব করেছেন, তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত। তিনি কারাগারে আঁকা কিছু চিত্র নিলামে তুলবেন এবং প্রাপ্ত অর্থের অর্ধেক ব্যয় করবেন বন্দিমুক্তির জন্য। তার কথায়, কারাগার একজন মানুষের কাছ থেকে কী কেড়ে নেয়, তা তিনি নিজের জীবনে উপলব্ধি করেছেন। তাই তিনি চান, অন্তত একজন মানুষ যেন মুক্তির স্বাদ পায়।
অন্যায় দণ্ড ও দীর্ঘ কারাবাস
মাত্র ২১ বছর বয়সে একটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। যদিও প্রকৃত অপরাধীর স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য ছিল, তবু তাকে দীর্ঘ ৩৯ বছরের সাজা দেওয়া হয়। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি সংশোধনাগারে কাটে তার জীবনের ২৭ বছর। অবশেষে আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৮ সালে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মুক্তি পান।

কারাগারে শিল্পচর্চার সূচনা
কারাগারের ভেতরে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবি আঁকতেন তিনি। একসময় তাকে একটি গলফ মাঠের দৃশ্য আঁকতে বলা হয়। কখনও গলফ না খেললেও তিনি পত্রিকায় দেখা ছবির ভিত্তিতে আঁকা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি তিন শতাধিক গলফ মাঠের চিত্র অঙ্কন করেন, যার মধ্যে দুবাইয়ের একাধিক বিখ্যাত গলফ কোর্সও ছিল।
শিল্পকর্মেই বদলে যায় ভাগ্য
তার আঁকা ছবি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। একটি খ্যাতনামা ক্রীড়া সাময়িকীতে তার শিল্পকর্ম প্রকাশিত হলে মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর আইনি সহায়তা পেয়ে তিনি মুক্তি লাভ করেন। বর্তমানে তার চিত্রকর্মের মূল্য বিপুল। অনেক শিল্পকর্ম উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে এবং বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিরাও তার কাজ সংগ্রহ করেছেন।
শান্তির খোঁজে ভিন্ন দেশে
মুক্তির পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে ফিরে যাননি। বর্তমানে তিনি এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। তার ভাষায়, রাগ বা প্রতিহিংসা নয়, ইসলাম তাকে শান্তি শিখিয়েছে। সেই শান্তির শিক্ষা থেকেই তিনি এবার মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন।
রমজানে তার প্রত্যাশা একটাই—তার বিক্রি করা ছবির অর্থে যদি একজন মানুষও কারাগার থেকে মুক্তি পায়, সেটাই হবে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















