ওয়াশিংটন থেকে নতুন করে বিশ্বব্যাপী আমদানির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আদায় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই হার শিগগিরই ১৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে বলে প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে। এতে দেশটির বাণিজ্য নীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নতুন শুল্কের শুরু, কিন্তু বিভ্রান্তি কেন
সোমবার মধ্যরাত থেকে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আদায় কার্যকর হয়। এর আগে জরুরি আইনের আওতায় আরোপিত বিস্তৃত শুল্ক সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার পর নতুন এই অস্থায়ী শুল্ক চালু করা হয়। প্রথম ঘোষণায় ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ হারের কথা বলা হলেও পরদিনই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ইঙ্গিত দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এখনো সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি না হওয়ায় শুল্ক আদায় ১০ শতাংশেই শুরু হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুল্ক ১৫ শতাংশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। তবে কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
আদালতের রায় ও ফেরতের দাবি
সর্বোচ্চ আদালত পূর্ববর্তী শুল্ককে ক্ষমতার সীমা অতিক্রম বলে রায় দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সেই আদায় বন্ধ করা হয়। পূর্বের শুল্কহার ছিল ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এখন সেই বাতিল হওয়া শুল্ক বাবদ আদায় করা অর্থ ফেরতের দাবিতে ফেডারেল আদালতে আবেদন জমা পড়েছে। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর দাবি, বেআইনিভাবে আদায় করা অর্থ সুদসহ দ্রুত ফেরত দিতে হবে।
অর্থনীতিতে প্রভাব ও শেয়ারবাজার
১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও ভবিষ্যৎ বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে শেয়ারদরে শুরুতে পতন দেখা গেলেও দিনের শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলো ঘুরে দাঁড়ায়। প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাড়ায় সামগ্রিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ইউরোপ ও চীনের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভিত্তি শুল্কে যে বাণিজ্য সমঝোতা হয়েছে, নতুন ১০ শতাংশ অস্থায়ী হার তা নিয়ে সাময়িক জটিলতা তৈরি করেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা চুক্তি বহাল থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে চীন একতরফা শুল্কনীতি পরিত্যাগের আহ্বান জানিয়ে নতুন দফা বাণিজ্য আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে।
শুল্ক বাড়ানোর যুক্তি কী
প্রশাসনের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র বড় ও গুরুতর অর্থপ্রবাহ ঘাটতির মুখে রয়েছে। বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি এবং সামগ্রিক চলতি হিসাবের ঘাটতিকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, পরিস্থিতি এতটা সংকটজনক নয় যে নতুন শুল্ক আরোপ জরুরি হয়ে পড়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এই শুল্ক আবারও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















