কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য ‘বুদ্বুদ’ ঝুঁকি এখন ঋণবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ দুশ্চিন্তা হিসেবে থাকা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাকে প্রথমবারের মতো ছাপিয়ে গেছে এআই সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যাংক অব আমেরিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে উদ্বেগের বড় পরিবর্তন
ফেব্রুয়ারিতে বিনিয়োগযোগ্য মানের ঋণ কেনাবেচা করা গ্রাহকদের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে ২৩ শতাংশ বিনিয়োগকারী বলেছেন, এআই বুদ্বুদের ঝুঁকিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা। গত ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। ব্যাংক অব আমেরিকার কৌশলবিদ বার্নাবি মার্টিন ও ইয়োয়ানিস অ্যাঞ্জেলাকিস এবং বিশ্লেষক মোহিত আগরওয়াল্লা এক যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে এই প্রথম এআই বুদ্বুদকে বিনিয়োগকারীরা এক নম্বর ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
এআই সম্প্রসারণে ঋণ ইস্যু বাড়ার আশঙ্কা
জরিপে অংশ নেওয়া বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআই খাতে সম্প্রসারণের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন ঋণ ইস্যু করবে। বিশেষ করে বড় ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন অ্যামাজন ও মেটা প্ল্যাটফর্মস—মিলে প্রায় ২৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ তুলতে পারে। দুই মাস আগে যেখানে ২১০ বিলিয়ন ডলার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেখানে এই পূর্বাভাস ৩৬ শতাংশ বেড়েছে।
প্রায় ৩০ শতাংশ বিনিয়োগকারী মনে করেন, চলতি বছরে এই ঋণের পরিমাণ ৩০০ বিলিয়ন ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ঋণবাজার ও ভূরাজনীতি এখন দ্বিতীয় সারিতে
জরিপে দেখা গেছে, অতিরিক্ত এআই বিনিয়োগ ও উচ্চ মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ এখন ঋণবাজার অতিমূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে ছাপিয়ে গেছে।

আগে যেখানে ঋণবাজারে বুদ্বুদের ঝুঁকি ছিল প্রধান ভয়, তা কমে ২৭ শতাংশ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ১০ শতাংশে। একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়লেও মাত্র ১০ শতাংশ বিনিয়োগকারী ভূরাজনীতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে জরিপের ফলাফল বলছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার চেয়ে এখন প্রযুক্তি খাতে অতিরিক্ত আশাবাদ এবং সম্ভাব্য আর্থিক ভারসাম্যহীনতাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















