বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে দ্রুত এগিয়ে চলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৫ সালে দেশটি বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ব্যবহারকারী—সবখানেই বেড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জামের ব্যবহার।
এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গ্রহণের হার ছিল মাত্র ১০ শতাংশ, সেখানে ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ শতাংশে। ২০২৫ সালে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। মাত্র দুই বছরে এই উল্লম্ফন দেশটির প্রযুক্তি অগ্রযাত্রার গতি স্পষ্ট করে।
অ্যাপ ডাউনলোডে রেকর্ড বৃদ্ধি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ ডাউনলোডের পরিসংখ্যানও একই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৩ সালে ডাউনলোড হয় ১১ লাখ অ্যাপ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ লাখে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা লাফিয়ে উঠে ৬৩ লাখে পৌঁছায়। শুধু ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০৭ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দ্রুত বৃদ্ধিই প্রমাণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আমিরাতের দৈনন্দিন জীবন, ব্যবসা পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাজে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
নীতি ও পরিকল্পনায় অগ্রগামী ভূমিকা
সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০১৭ সালেই জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল ঘোষণা করে বিশ্বে নজির গড়েছিল। সেই কৌশলের ভিত্তিতেই সরকারি সেবা, অবকাঠামো, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবহন খাতে ধাপে ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযুক্ত করা হয়েছে।
হালনাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কৌশল ২০৩১–এর লক্ষ্য হলো চলতি দশকের মধ্যেই দেশটিকে বৈশ্বিক নেতৃত্বের আসনে বসানো। ২০২৫ সালে সরকারের প্রায় ৯৭ শতাংশ দপ্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সরঞ্জাম ব্যবহার হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা সরকারি খাতে গভীর গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়।

অর্থনীতিতে ৯৬ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা
বিশ্লেষণ বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় ৯৬ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে পারে। যা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৪ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে এই প্রভাব অন্যতম উচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পেশাজীবীদের বড় অংশ নিয়মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছেন। গবেষণা, যোগাযোগ ও তথ্য বিশ্লেষণে এই প্রযুক্তি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

আবুধাবি ও দুবাই আঞ্চলিক কেন্দ্র
আবুধাবি ও দুবাইকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে নতুন প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র ও বিনিয়োগকারীরা এই দুটি শহরকে আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে দেখছেন। সরকারি সহায়তা, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো ও স্মার্টফোনের উচ্চ ব্যবহার হার এই প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নেতৃত্ব ধরে রাখতে হলে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং নৈতিক ব্যবহারের কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত কাঠামো উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
সব মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিজিটাল অর্থনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যবহার ও বিনিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামীতেও বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশটির অবস্থান আরও মজবুত হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















