জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে মাদক সেবনের অভিযোগে এক ছাত্রীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী সানজিদা আমির ইনিশাকে নবাব ফয়জুন্নেসা হলের একটি কক্ষ থেকে আটক করা হয়। তিনি পাশের বেগম খালেদা জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
শনিবার সন্ধ্যায় হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে মাদক সেবনের সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কক্ষটি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী তনুজা তিথির নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইনিশা সেখানে গিয়ে মাদক সেবন করছিলেন।
কীভাবে আটক করা হয়

হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া খাতুনের অভিযোগের ভিত্তিতে হলের ওয়ার্ডেন সুলতানা আক্তার কক্ষে অভিযান চালান। এ সময় ইনিশাকে মাদকসহ আটক করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
পরে বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা ঘটনাস্থলে এসে ইনিশাকে নিয়ে যান।
অভিযোগ অস্বীকার
ফাতেমা তুজ জোহরা মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ইনিশা মানসিক চাপে ছিলেন এবং কেবল সিগারেট খাচ্ছিলেন, মাদক সেবনের বিষয়টি সঠিক নয়।
প্রশাসনের বক্তব্য

নবাব ফয়জুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রী অন্য হলের আবাসিক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট হল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং তাদের প্রতিনিধি এসে তাকে নিয়ে যান। কক্ষটির মূল আবাসিক ছাত্রী অনুপস্থিত থাকায় কক্ষটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কক্ষ থেকে গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। হলের ওয়ার্ডেন ড. সুলতানা আক্তারকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















