হরমুজ প্রণালির সংকট এবং দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ঘাটতির দ্বিমুখী চাপে বন্ধ হয়ে গেছে বাংলাদেশের একমাত্র ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার কারখানা ডিএপিএফসিএল। কারখানাটির কাঁচামাল অ্যামোনিয়া সরবরাহ করত সিইউএফএল এবং কাফকো — দুটি কারখানাই গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ আছে।
মাসে ২ হাজার টন অ্যামোনিয়া দরকার, মজুদ নেই
ডিএপিএফসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের মাসে প্রায় ২,০০০ টন অ্যামোনিয়া প্রয়োজন। বর্তমান মজুদ দিয়ে উৎপাদন আর সম্ভব নয়। সিইউএফএল বা কাফকো পুনরায় চালু না হলে কারখানাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে।

আমান মৌসুমে সার ঘাটতির আশঙ্কা
সরকার বলছে, বোরো মৌসুমের জন্য যথেষ্ট সার মজুদ আছে। তবে জুন-জুলাই থেকে শুরু হতে চলা আমান মৌসুমের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে। সৌদি আরব থেকে চুক্তিকৃত ৬ লাখ টন ডিএপি সার আমদানি হরমুজ সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিকল্প উৎস হিসেবে চীন, মিশর ও রাশিয়ার কাছ থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডিএপির দাম ইতিমধ্যে প্রতি টনে ৮৫০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
একটি বিপদ, তিনটি সংকট
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন তিনটি সংকটের গাঁটছড়ায় আটকে গেছে — গ্যাস সংকট, হরমুজ অবরোধ এবং চীনের সার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা। এই তিনটি একসাথে চলতে থাকলে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















