ইরানের সামরিক বাহিনী শনিবার ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি “আগের অবস্থায় ফিরে গেছে” — অর্থাৎ প্রণালিটি কার্যত আবার বন্ধ। মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লেবানন যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রণালিটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় এবং ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত চলমান থাকায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ সতর্ক করেন, মার্কিন অবরোধ না উঠলে প্রণালি আর খোলা থাকবে না। শুক্রবার মাত্র কয়েকটি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করতে পেরেছে বলে জানিয়েছে শিপিং বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলার।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ মঙ্গলবার, নতুন বৈঠকের দিনক্ষণ নেই
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামীকাল মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল শেষ হচ্ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো তারিখ নির্ধারিত হয়নি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির বুধবার তেহরান সফর করেন এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ডিল করার বল এখন ইরানের কোর্টে।

বাংলাদেশের জ্বালানি পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রভাব
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এলএনজির ৩০ শতাংশ পরিবহন হয়। প্রণালি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ তার ৬০-৬৫ শতাংশ জ্বালানি তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দেশের জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















