মার্কিন শুল্ক নীতিকে ঘিরে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার পর বিশ্ববাজারে আবারও বড় ধাক্কা খেল বিটকয়েন। সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ডিজিটাল মুদ্রার দাম নেমে আসে প্রায় ৬৫ হাজার ডলারের ঘরে। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান এবং নীতিগত দোলাচল মিলিয়ে বাজারে তৈরি হয়েছে চাপের আবহ।

শুল্ক সিদ্ধান্তে নতুন অস্থিরতা
মার্কিন আদালতের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে আগের বিস্তৃত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল হওয়ার পরপরই ওয়াশিংটন বিশ্বজুড়ে আমদানির ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। এতে আবারও বাণিজ্য উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়।
এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে। বিটকয়েন লেনদেনের শুরুর দিকে প্রায় পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেলেও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদা কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দাম ৬০ হাজার ডলারের সমর্থন স্তরও পরীক্ষা করতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগে ভাটা
একসময় বিটকয়েনের উত্থানের বড় চালিকাশক্তি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ। কিন্তু এখন সেই প্রবাহে ভাটা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পট তহবিল থেকে গত কয়েক মাসে এক লাখের বেশি বিটকয়েন তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে মোট ধারণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার বিটকয়েন।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তহবিলে অর্থপ্রবাহ কমে যাওয়া মানে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ফলে নিকট ভবিষ্যতে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী ধারা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কমে গেছে।
বছরের শুরু থেকে বড় পতন
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিটকয়েনের দর কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ। আর গত অক্টোবরে যে সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল, সেখান থেকে পতন ৪৭ শতাংশের বেশি। এতে স্পষ্ট, বাজারে দীর্ঘমেয়াদি সংশোধন পর্ব চলছে।
ডিজিটাল সম্পদভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারেও চাপ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি শিরোনামভিত্তিক ঘটনা নয়, বরং তারল্য সংকট, আস্থার ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সম্মিলিত প্রভাব।

উচ্চ সুদের হার ও ডলারের চাপ
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতি এখনো শক্ত অবস্থানে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমবাজারের স্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো নাও হতে পারে। ফলে উচ্চ ফলনশীল বন্ড এবং শক্তিশালী ডলার বিটকয়েনের মতো আয়বিহীন সম্পদের ওপর চাপ তৈরি করছে।
অন্যদিকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দর বেড়েছে এক শতাংশের বেশি। এতে বিটকয়েনকে ‘ডিজিটাল স্বর্ণ’ হিসেবে দেখার ধারণা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

পুনরুদ্ধারের শর্ত কী
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। তবে স্থায়ী পুনরুদ্ধারের জন্য দরকার হবে তহবিলে নতুন অর্থপ্রবাহ, সুদের হার শিথিলের পরিষ্কার ইঙ্গিত এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা কমার লক্ষণ।
তার আগে পর্যন্ত বিটকয়েনের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কাই বেশি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















