যুক্তরাষ্ট্র ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও লাওস থেকে আমদানি হওয়া সৌর সেল ও প্যানেলের ওপর প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক শুল্ক আরোপ করেছে। সরকারের বাণিজ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কোম্পানিগুলোর ওপর ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে ১৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সৌরবাজারে এশীয় আধিপত্যে বড় ধাক্কা লাগতে পারে এবং কয়েক বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কেন এ সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও লাওসের কিছু কোম্পানি সরকারি ভর্তুকি পেয়ে এমন দামে পণ্য রপ্তানি করছে, যা মার্কিন নির্মাতাদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন করে তুলছে। তাদের দাবি, এই ভর্তুকির কারণে মার্কিন বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সৌরপণ্য পিছিয়ে পড়ছে।
গত এক দশকে এশিয়া থেকে সস্তা সৌরপণ্যের বিরুদ্ধে একাধিকবার শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে চীনা মালিকানাধীন বা চীনা বিনিয়োগে পরিচালিত কারখানাগুলোর পণ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য টানাপোড়েন চলছে।

কত শতাংশ শুল্ক
সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রে গড় ভর্তুকির হার ধরা হয়েছে ১২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে ১০৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং লাওসের ক্ষেত্রে ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের মুন্দ্রা সোলারের ক্ষেত্রে ১২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পিটি ব্লু স্কাই সোলারের জন্য ১৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পিটি আরইসি সোলার এনার্জির জন্য ৮৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। লাওসের সোলারস্পেস টেকনোলজি সোল এবং ভিয়েতনাম সানএনার্জি জয়েন্ট স্টক কোম্পানির জন্য হার নির্ধারণ হয়েছে ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
কত বড় বাণিজ্য ঝুঁকিতে
সরকারি বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে এই তিন দেশ মিলিয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের সৌরপণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে, যা মোট আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। নতুন শুল্ক কার্যকর হলে এই বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

এর আগে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকে আমদানির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পর সেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরপণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে বৈশ্বিক সৌর সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব পড়ে।
মার্কিন নির্মাতাদের দাবি
এই বাণিজ্য মামলাটি দায়ের করেছে আমেরিকান সোলার ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ট্রেড জোট, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগকারী একাধিক সৌর প্রস্তুতকারক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, অন্যায্য ভর্তুকিপ্রাপ্ত আমদানি চলতে থাকলে দেশীয় কারখানায় বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হবে।
জোটের আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে সৌরশিল্প পুনর্গঠনের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা রক্ষায় কঠোর বাণিজ্য নীতি প্রয়োজন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত কিছু কোম্পানির পক্ষ থেকে হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত শুল্কহার বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে না।

পরবর্তী পদক্ষেপ
এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দপ্তর আলাদা করে সিদ্ধান্ত দেবে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো উৎপাদন খরচের নিচে দামে পণ্য বিক্রি করে বাজার প্লাবিত করেছে কি না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জুলাইয়ে আসতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে সৌরশক্তি খাতের মূল্য, সরবরাহ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে উত্তেজনাও বাড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















