১১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
চাঁদপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে বাড়বে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা রক্ষণ ভাঙার সব কৌশল ছিল, গোলটাই ছিল না: ঘানার কাছে কেন থমকে গেল ইংল্যান্ড চীনের বুলেট ট্রেনে বেইজিং পৌঁছালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরঝড়ের আতঙ্ক কতটা বাস্তব, আর কতটা মোকাবিলা করা সম্ভব? রোনালদিনহোর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন: ৪৬ বছর বয়সে ইতালির রাভেন্নায় যোগ দিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি ডলার নির্ভরতা কমাতে ইন্দোনেশিয়া-চীনের নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনে গতি পোশাক খাতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করার দাবি বিজিএমইএর ট্রাম্প-ইরান আলোচনায় প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নীতিতে বড় পরিবর্তন, কিছু দেশের জন্য হার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি

যুক্তরাষ্ট্র আবারও আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পথে হাঁটছে। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্ক কিছু দেশের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি করা হতে পারে। যদিও কোন কোন দেশের ওপর এই বাড়তি হার প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

US tariff rate to hit 15% or more for some nations, Greer says - Nikkei Asia

শুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশে, কারা পড়বে বাড়তি চাপে

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক সাক্ষাৎকারে জানান, এখন যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে, তা কিছু দেশের জন্য ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে হার আরও বেশি হতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করেননি। পরে আরেক আলোচনায় তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে সাময়িক শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে।

U.S. tariff rate to hit 15% or more for some nations, Greer says

চীনের ক্ষেত্রে আপাতত বাড়ছে না শুল্ক

গ্রিয়ার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চীনা পণ্যের ওপর বর্তমান শুল্কহার বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। সামনের সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে সামনে রেখে প্রশাসন বিদ্যমান বাণিজ্য সমঝোতা বজায় রাখতে চায়। তার ভাষায়, বর্তমানে যে হার কার্যকর আছে, সেটির বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার ইচ্ছা নেই।

বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা

মার্কিন প্রশাসন বলছে, নতুন শুল্ক কাঠামো বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে আরোপিত শুল্ক বাতিলের পর বিকল্প হিসেবে যে নতুন শুল্ক চালু করা হয়েছে, তা আইনি কাঠামোর মধ্যেই থাকবে। গ্রিয়ার স্বীকার করেন, শুল্ক আরোপের পর বিদেশি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতে যেতে পারে। সে কারণেই প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেই এগোতে চায়।

৩০১ ধারা তদন্তে জোর, ইন্দোনেশিয়াসহ একাধিক দেশ নজরে

বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতা তৈরি, জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈষম্য কিংবা কৃষি ও মৎস্য খাতে ভর্তুকির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য নীতিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। দেশটির শিল্প সক্ষমতা ও মৎস্য ভর্তুকি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কী ধরনের শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

A Tariffs Cheat Sheet - The New York Times

চীন ও ভিয়েতনাম নিয়ে উদ্বেগ

গ্রিয়ার বলেন, অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার প্রশ্নে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তার অভিযোগ, লোকসানে থাকা বহু প্রতিষ্ঠানও সরকারি সহায়তায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণেই চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ প্রয়োজন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পুরোনো আইনও থাকতে পারে ব্যবহারে

প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো আরেকটি বাণিজ্য আইন প্রয়োগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে সেই আইনে। তবে আপাতত দেশভিত্তিক ৩০১ ধারা তদন্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর নজরদারিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

US tariff rate to hit 15% or more for some nations: trade official

বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা

শুল্কহার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি করার এই ইঙ্গিত বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় চাপ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে ট্রাম্পের কূটনৈতিক সফর এবং চলমান বাণিজ্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদপুরে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুতের কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক নীতিতে বড় পরিবর্তন, কিছু দেশের জন্য হার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি

০২:১৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র আবারও আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পথে হাঁটছে। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশ সাময়িক শুল্ক কিছু দেশের ক্ষেত্রে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি করা হতে পারে। যদিও কোন কোন দেশের ওপর এই বাড়তি হার প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

US tariff rate to hit 15% or more for some nations, Greer says - Nikkei Asia

শুল্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশে, কারা পড়বে বাড়তি চাপে

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক সাক্ষাৎকারে জানান, এখন যে ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে, তা কিছু দেশের জন্য ১৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। কিছু ক্ষেত্রে হার আরও বেশি হতে পারে। তবে তিনি নির্দিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করেননি। পরে আরেক আলোচনায় তিনি বলেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে সাময়িক শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তুতি চলছে।

U.S. tariff rate to hit 15% or more for some nations, Greer says

চীনের ক্ষেত্রে আপাতত বাড়ছে না শুল্ক

গ্রিয়ার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, চীনা পণ্যের ওপর বর্তমান শুল্কহার বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। সামনের সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরকে সামনে রেখে প্রশাসন বিদ্যমান বাণিজ্য সমঝোতা বজায় রাখতে চায়। তার ভাষায়, বর্তমানে যে হার কার্যকর আছে, সেটির বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার ইচ্ছা নেই।

বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার চেষ্টা

মার্কিন প্রশাসন বলছে, নতুন শুল্ক কাঠামো বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর করা হবে। জরুরি ভিত্তিতে আরোপিত শুল্ক বাতিলের পর বিকল্প হিসেবে যে নতুন শুল্ক চালু করা হয়েছে, তা আইনি কাঠামোর মধ্যেই থাকবে। গ্রিয়ার স্বীকার করেন, শুল্ক আরোপের পর বিদেশি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতে যেতে পারে। সে কারণেই প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেই এগোতে চায়।

৩০১ ধারা তদন্তে জোর, ইন্দোনেশিয়াসহ একাধিক দেশ নজরে

বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা অনুযায়ী অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতা তৈরি, জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈষম্য কিংবা কৃষি ও মৎস্য খাতে ভর্তুকির মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য নীতিও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। দেশটির শিল্প সক্ষমতা ও মৎস্য ভর্তুকি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কী ধরনের শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

A Tariffs Cheat Sheet - The New York Times

চীন ও ভিয়েতনাম নিয়ে উদ্বেগ

গ্রিয়ার বলেন, অতিরিক্ত শিল্প সক্ষমতার প্রশ্নে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তার অভিযোগ, লোকসানে থাকা বহু প্রতিষ্ঠানও সরকারি সহায়তায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণেই চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশের ওপর শুল্ক আরোপ প্রয়োজন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

পুরোনো আইনও থাকতে পারে ব্যবহারে

প্রায় এক শতাব্দী পুরোনো আরেকটি বাণিজ্য আইন প্রয়োগের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে সেই আইনে। তবে আপাতত দেশভিত্তিক ৩০১ ধারা তদন্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের ওপর নজরদারিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

US tariff rate to hit 15% or more for some nations: trade official

বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা

শুল্কহার ১৫ শতাংশ বা তারও বেশি করার এই ইঙ্গিত বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর দেশগুলোর জন্য এটি বড় চাপ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে ট্রাম্পের কূটনৈতিক সফর এবং চলমান বাণিজ্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।