দেশীয় বাজারে মুনাফা কমে আসা এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়তে থাকায় চীনের বহু প্রতিষ্ঠান এখন আরও লাভজনক বাজারের খোঁজে বিদেশমুখী হচ্ছে। “গো গ্লোবাল” কৌশলের নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে চীনা করপোরেট দুনিয়া। তবে এই সম্প্রসারণ এমন এক আন্তর্জাতিক পরিবেশে ঘটছে, যা জটিল ও চ্যালেঞ্জে ভরা।
এই ধারাবাহিকে চীনা কোম্পানিগুলোর বিশ্ববাজারে বিস্তারের নতুন অধ্যায় এবং তারা যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে, তার বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।
ডংগুয়ানের মধ্যরাতেও ব্যস্ততা
চীনের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি কেন্দ্র ডংগুয়ানে তখন গভীর রাত। কিন্তু পেং বিআও এখনও ভিডিও সম্পাদনায় ব্যস্ত।
ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের এক কারখানা মালিক বিমান থেকে নেমে এক বাংলাদেশি ক্রেতাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। এরপর কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত ইংরেজিতে নিজের সফরের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করছেন। ক্যামেরা কিছুটা কাঁপছে, তবে পেংয়ের মতে এতে দৃশ্যটি আরও স্বতঃস্ফূর্ত ও বাস্তব মনে হয়।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভিডিওটি ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে আপলোড করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইংরেজি ভয়েস-ওভার ও সাবটাইটেল তৈরি করবে, যাতে বিদেশি দর্শকদের জন্য বিষয়বস্তুটি সহজবোধ্য হয়।

দক্ষিণ চীনের কারখানাভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ
গত কয়েক বছরে পেং একটি লাভজনক ক্ষেত্র তৈরি করেছেন। দক্ষিণ চীনের শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর জন্য বিদেশি ক্রেতা খুঁজে পেতে তিনি সহায়তা করেন। তাঁর স্টুডিও বর্তমানে অঞ্চলের এক ডজনেরও বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে।
তারা শুধু ভিডিও নির্মাণই নয়, বিদেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনেও সহায়তা করছে। ফলে স্থানীয় উৎপাদকরা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

চীনের উৎপাদন খাতে নীরব রূপান্তর
চীনের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ধীরে ধীরে একটি বড় পরিবর্তন ঘটছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে আসা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক উৎপাদক এখন বিদেশে বিক্রি বাড়াতে মরিয়া।
এই প্রবণতা শুধু কোম্পানিগুলোর কৌশল বদলাচ্ছে না, বরং তৈরি করছে নতুন ধরনের সেবা খাত। বিপণন বিশেষজ্ঞ, অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতা, ভাষা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ—সবাই এখন চাহিদার শীর্ষে।
চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বমুখী যাত্রা তাই কেবল রপ্তানি বৃদ্ধির গল্প নয়। এটি একই সঙ্গে একটি কাঠামোগত রূপান্তরের ইঙ্গিত, যেখানে বিদেশি দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















