দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর নতুন ইপি ‘ডেডলাইন’ নিয়ে ফিরেছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত গার্ল গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক। ২০২২ সালে দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম প্রকাশের পর এটিই তাদের প্রথম যৌথ প্রকাশনা। শুক্রবার নতুন এই সংগীত প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সিউলে তৈরি হয় উৎসবের আবহ, ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে শহর।

সিউলে গোলাপি আলো, জাদুঘরে ভক্তদের ঢল
রাজধানী সিউলের কেন্দ্রে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরকে গোলাপি আলোয় সাজিয়ে তোলা হয় নতুন ইপি প্রকাশ উপলক্ষে। জাদুঘরের ভেতরে বিশেষ শ্রবণকেন্দ্র তৈরি করা হয়, যেখানে ‘ডেডলাইন’-এর পাঁচটি গান শোনার ব্যবস্থা ছিল। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমান তিন শতাধিক ভক্ত।
ভক্তদের অনেকেই জানিয়েছেন, ব্ল্যাকপিংকের নতুন কাজের জন্য তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষায় ছিলেন। জাপানে বসবাসকারী ২০ বছর বয়সী কো সোন-আ বলেন, এখন রাস্তায় হাঁটলেও, দোকান বা ক্যাফেতে গেলেও সর্বত্র কেপপের গান শোনা যায়। এই ধারার প্রভাব যে কতটা বিস্তৃত, তা তিনি প্রতিদিনই অনুভব করেন।

বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস
চার সদস্যের এই গার্ল গ্রুপ ইতিমধ্যেই একাধিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে তারা বিশ্বে প্রথম শিল্পী হিসেবে একশো মিলিয়ন ইউটিউব গ্রাহক অতিক্রম করে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
এর আগে তারা কেপপ গ্রুপ হিসেবে প্রথমবারের মতো কোচেল্লা উৎসব এবং ব্রিটিশ সামার টাইম কনসার্টে প্রধান শিল্পী হিসেবে মঞ্চ মাতিয়েছে। ফলে ‘ডেডলাইন’ শুধু একটি সংগীত প্রকাশ নয়, বরং তাদের বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও মজবুত করার পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

‘ডেডলাইন’-এ পাঁচ গানের বৈচিত্র্য
নতুন ইপিতে রয়েছে মোট পাঁচটি গান। শিরোনাম গান ‘গো’ ইতিমধ্যেই ভক্তদের আলোচনায় শীর্ষে। পাশাপাশি আগে প্রকাশিত ইডিএম ঘরানার গান ‘জাম্প’ নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
চুক্তি নবায়নের পরও চার সদস্যই একক কাজের দিকেও মনোযোগ দিয়েছেন। ২০২৩ সালে সংস্থার সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করলেও প্রত্যেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বা আলাদা চুক্তির মাধ্যমে একক প্রকল্প চালিয়ে যাচ্ছেন। সদস্য রোজের ২০২৫ সালের একক গান ‘এপিটি’ আন্তর্জাতিক চার্টে শীর্ষে উঠে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।
কেপপের মাধ্যমে কোরিয়ান সংস্কৃতির বিস্তার
অনেক ভক্তই মনে করছেন, ব্ল্যাকপিংকের মতো শিল্পীদের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা কোরিয়ার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও আরও পরিচিত করে তুলছে। গোলাপি রঙের হানবক পরে জাদুঘরে আসা কওন হিয়ক-জে আশা প্রকাশ করেন, কেপপের মাধ্যমে কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিও বিশ্বদরবারে আরও ছড়িয়ে পড়বে।
তিন বছর পর প্রত্যাবর্তনেই প্রমাণ মিলল, ব্ল্যাকপিংকের জনপ্রিয়তা এতটুকুও কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের সঙ্গে নিয়ে তারা আবারও বৈশ্বিক সংগীতমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানিয়ে দিল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















