০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস মালয়েশিয়ায় একক মায়ের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার ছাড়াল, দারিদ্র্য ও জীবনযুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে চীনের নতুন বার্তা: দেশের টাকা দেশে রাখুন, বিদেশে বিনিয়োগে বাড়ছে কড়াকড়ি মালয়েশিয়ায় ডিজেলে বাড়ছে পাম অয়েলের ব্যবহার, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ ইরান চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, লেবাননে যুদ্ধবিরতির দাবিতে জি-৭ নেতারা সিঙ্গাপুরের নেতৃত্বে আসিয়ানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন যুগ, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও তথ্যপ্রবাহে জোর ভারতে  টমেটো-পেঁয়াজ-আলুর দামে আগুন, কৃষকের হাতে নেই ন্যায্য মূল্য পশ্চিমবঙ্গে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে রাজপথে মমতা, হকারদের পক্ষে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন কোটা থেকে রাহুলের শিক্ষা বার্তা: ‘স্বপ্ন গড়ার বদলে শিক্ষাব্যবস্থা চাপ ও খরচ বাড়াচ্ছে’ টেলিগ্রামে প্রশ্নফাঁস আতঙ্ক, সতর্কবার্তার পরই ভারতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি

সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চাপের লক্ষণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা কমেছে, একই সঙ্গে ছাঁটাই বেড়ে পৌঁছেছে গত কয়েক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত ও ডিগ্রিধারী কর্মীদের মধ্যে ছাঁটাইয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কমেছে চাকরির সুযোগ

সর্বশেষ শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যেখানে চাকরির শূন্যপদ ছিল ৭৭ হাজার ৭০০, তা ২০২৬ সালের মার্চে নেমে এসেছে ৭৩ হাজার ৩০০-এ। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায়ও এ সংখ্যা কম। ফলে বেকারদের তুলনায় চাকরির সুযোগের অনুপাতও আগের চেয়ে নিচে নেমেছে।

তবে দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীদের জন্য কিছু খাতে চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে আর্থিক খাতে নতুন নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখা গেছে।

বেড়েছে ছাঁটাই

বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ৩ হাজার ৮৩০ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি এবং ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সর্বোচ্চ ছাঁটাইয়ের ঘটনা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উৎপাদন, আর্থিক সেবা এবং পেশাভিত্তিক জ্ঞাননির্ভর খাতে পুনর্গঠন কার্যক্রমের কারণে উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের ওপর প্রভাব বেশি পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর পরিবর্তে কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ বেছে নিচ্ছে।

ডিগ্রিধারীদের মধ্যে উদ্বেগ

ডিগ্রিধারী কর্মীদের ছাঁটাইয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত না দিয়ে বরং অফিসভিত্তিক পেশাজীবী খাতে পুনর্গঠনের প্রতিফলন। তবে মধ্যবয়সী পেশাজীবীদের জন্য নতুন চাকরি খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চাকরি হারিয়েও ফিরছেন অনেকে

Singapore Job Market Strains: Retrenchments Rise in Q3 2025 | Dr. Daniel CF  Ng 伍长辉 博士 posted on the topic | LinkedIn

ইতিবাচক দিক হলো, চাকরি হারানোর পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান পাওয়া মানুষের হার বাড়ছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে এই হার ৬০ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বাড়ছে

প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর প্রভাব সরাসরি চাকরি কমানোর চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের কাঠামো বদলে নিচ্ছে। তবুও ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

শ্রমবাজার এখনও সম্প্রসারিত

চাপ থাকা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজার পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েনি। বছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং টানা ১৮ প্রান্তিক ধরে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের হারও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে ছাঁটাইয়ের প্রবণতা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতার চাহিদা শ্রমবাজারকে আরও বদলে দিতে পারে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে মালয়েশিয়ার নতুন নজরদারি শক্তি, আকাশে যুক্ত হলো ‘অবিরাম চোখ’ আনকা-এস

সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি

০১:২৮:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজারে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চাপের লক্ষণ আরও স্পষ্ট হয়েছে। চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা কমেছে, একই সঙ্গে ছাঁটাই বেড়ে পৌঁছেছে গত কয়েক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত ও ডিগ্রিধারী কর্মীদের মধ্যে ছাঁটাইয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কমেছে চাকরির সুযোগ

সর্বশেষ শ্রমবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যেখানে চাকরির শূন্যপদ ছিল ৭৭ হাজার ৭০০, তা ২০২৬ সালের মার্চে নেমে এসেছে ৭৩ হাজার ৩০০-এ। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায়ও এ সংখ্যা কম। ফলে বেকারদের তুলনায় চাকরির সুযোগের অনুপাতও আগের চেয়ে নিচে নেমেছে।

তবে দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মীদের জন্য কিছু খাতে চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে আর্থিক খাতে নতুন নিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখা গেছে।

বেড়েছে ছাঁটাই

বছরের প্রথম তিন মাসে মোট ৩ হাজার ৮৩০ জন কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা বেশি এবং ২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের পর এটিই সর্বোচ্চ ছাঁটাইয়ের ঘটনা।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উৎপাদন, আর্থিক সেবা এবং পেশাভিত্তিক জ্ঞাননির্ভর খাতে পুনর্গঠন কার্যক্রমের কারণে উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের ওপর প্রভাব বেশি পড়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যয় কমানোর পরিবর্তে কাঠামোগত পরিবর্তনের পথ বেছে নিচ্ছে।

ডিগ্রিধারীদের মধ্যে উদ্বেগ

ডিগ্রিধারী কর্মীদের ছাঁটাইয়ের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত না দিয়ে বরং অফিসভিত্তিক পেশাজীবী খাতে পুনর্গঠনের প্রতিফলন। তবে মধ্যবয়সী পেশাজীবীদের জন্য নতুন চাকরি খুঁজে পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

চাকরি হারিয়েও ফিরছেন অনেকে

Singapore Job Market Strains: Retrenchments Rise in Q3 2025 | Dr. Daniel CF  Ng 伍长辉 博士 posted on the topic | LinkedIn

ইতিবাচক দিক হলো, চাকরি হারানোর পর ছয় মাসের মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান পাওয়া মানুষের হার বাড়ছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে এই হার ৬০ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বাড়ছে

প্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর প্রভাব সরাসরি চাকরি কমানোর চেয়ে কাজের ধরন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের নতুন দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজের কাঠামো বদলে নিচ্ছে। তবুও ভবিষ্যতে নিয়োগের গতি কিছুটা কমে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

শ্রমবাজার এখনও সম্প্রসারিত

চাপ থাকা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের শ্রমবাজার পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েনি। বছরের প্রথম প্রান্তিকে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে এবং টানা ১৮ প্রান্তিক ধরে কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের হারও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী মাসগুলোতে ছাঁটাইয়ের প্রবণতা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং কর্মক্ষেত্রে নতুন দক্ষতার চাহিদা শ্রমবাজারকে আরও বদলে দিতে পারে।