০৭:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
দীপ্তি শর্মার ৫/১০-এ পাকিস্তান ধরাশায়ী, বিশ্বকাপে ভারতের দুর্দান্ত শুরু বিশ্বকাপে আজ ফ্রান্স-সেনেগাল ও আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া, ইরান দলকে ঘিরে নাটক ‘নাইভস আউট ৩’ নেটফ্লিক্সে: বেনোয়া ব্লাঁর নতুন রহস্য নেটফ্লিক্সের এমজে ডকু নিয়ে ক্ষুব্ধ ভক্তদের একাংশ কান ২০২৬: ঐশ্বরিয়া নাকি আলিয়া — ফ্যাশন বিতর্কে সামাজিক মাধ্যম দ্বিধাবিভক্ত আলিয়া ভাটের ‘আলফা’ টিজারে ওয়াইআরএফ স্পাই ইউনিভার্সে নতুন অধ্যায় ১৯ জুন আসছে ‘ককটেল ২’: শাহিদ-ক্রিতি-রাশ্মিকার ত্রিকোণ প্রেম বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে বিটিএস, শাকিরা ও ম্যাডোনা বিটিএস-এর ১৩তম বার্ষিকী: ‘কাম ওভার’ স্ট্রিমিংয়ে, ‘সুইম’ বিলবোর্ডে শীর্ষে ব্রিটেনে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পরিকল্পনা

এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি

ডেঙ্গুর বিস্তার এখন বৈশ্বিকভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগটির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এককভাবে নয়, বরং সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে এশিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ জোরদারে ছয়টি আঞ্চলিক সংস্থা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই

এশিয়া ডেঙ্গু সামিটের নবম আসরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়। আসিয়ান ডেঙ্গু দিবস ও বিশ্ব ডেঙ্গু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে জ্ঞান বিনিময়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করে।

চুক্তিতে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর ডেঙ্গু অ্যালায়েন্স, এশিয়া ডেঙ্গু ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন, ফিলিপাইনের ডেঙ্গুবিরোধী নেটওয়ার্ক, মালয়েশিয়ার ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রচারণা সংগঠন, ইন্দোনেশিয়ার ডেঙ্গু প্রতিরোধ উদ্যোগ এবং অবহেলিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

নতুন প্রযুক্তিতে আশার আলো

Representatives from the various regional groups taking a photo after signing the MoU at the 9th Asia Dengue Summit at Orchard Hotel on June 15.

সম্মেলনে বক্তারা জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জীববৈজ্ঞানিক নতুন প্রযুক্তিগুলো ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। বিশেষ করে উলবাকিয়া প্রযুক্তি এবং জীবাণুমুক্ত পুরুষ মশা ছাড়ার পদ্ধতি বিভিন্ন পরিবেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও টিকা উন্নয়নেও ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এসব কার্যকর পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার এবং আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

সতর্কতা হারালে বাড়তে পারে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গুর অন্যতম বিপজ্জনক দিক হলো এটি অনেক সময় নীরবে বিস্তার লাভ করে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে।

তাদের মতে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি শান্ত দেখালেও তা উপেক্ষা করা যাবে না। আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিঙ্গাপুরে ইতিবাচক ফল

Project Wolbachia expands to cover more Singapore households | The Straits  Times

সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া উলবাকিয়া কর্মসূচি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিশেষ ব্যাকটেরিয়াবাহী পুরুষ মশা ছেড়ে এডিস মশার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় জনগণকে এখনও সচেতন থাকতে হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা

২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সিঙ্গাপুরের অর্ধেকের বেশি পরিবারকে উলবাকিয়া কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দীপ্তি শর্মার ৫/১০-এ পাকিস্তান ধরাশায়ী, বিশ্বকাপে ভারতের দুর্দান্ত শুরু

এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি

০১:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ডেঙ্গুর বিস্তার এখন বৈশ্বিকভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোগটির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় এককভাবে নয়, বরং সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। এই প্রেক্ষাপটে এশিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ জোরদারে ছয়টি আঞ্চলিক সংস্থা একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে যৌথ লড়াই

এশিয়া ডেঙ্গু সামিটের নবম আসরে এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ঘোষণা দেওয়া হয়। আসিয়ান ডেঙ্গু দিবস ও বিশ্ব ডেঙ্গু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে জ্ঞান বিনিময়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করে।

চুক্তিতে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর ডেঙ্গু অ্যালায়েন্স, এশিয়া ডেঙ্গু ভয়েস অ্যান্ড অ্যাকশন, ফিলিপাইনের ডেঙ্গুবিরোধী নেটওয়ার্ক, মালয়েশিয়ার ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রচারণা সংগঠন, ইন্দোনেশিয়ার ডেঙ্গু প্রতিরোধ উদ্যোগ এবং অবহেলিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

নতুন প্রযুক্তিতে আশার আলো

Representatives from the various regional groups taking a photo after signing the MoU at the 9th Asia Dengue Summit at Orchard Hotel on June 15.

সম্মেলনে বক্তারা জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জীববৈজ্ঞানিক নতুন প্রযুক্তিগুলো ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। বিশেষ করে উলবাকিয়া প্রযুক্তি এবং জীবাণুমুক্ত পুরুষ মশা ছাড়ার পদ্ধতি বিভিন্ন পরিবেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ও টিকা উন্নয়নেও ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এসব কার্যকর পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহার এবং আরও বড় পরিসরে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

সতর্কতা হারালে বাড়তে পারে ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডেঙ্গুর অন্যতম বিপজ্জনক দিক হলো এটি অনেক সময় নীরবে বিস্তার লাভ করে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা এবং শক্তিশালী স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে।

তাদের মতে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি শান্ত দেখালেও তা উপেক্ষা করা যাবে না। আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থা ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সিঙ্গাপুরে ইতিবাচক ফল

Project Wolbachia expands to cover more Singapore households | The Straits  Times

সিঙ্গাপুরে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া উলবাকিয়া কর্মসূচি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিশেষ ব্যাকটেরিয়াবাহী পুরুষ মশা ছেড়ে এডিস মশার সংখ্যা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় জনগণকে এখনও সচেতন থাকতে হবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

আগামী দিনের পরিকল্পনা

২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সিঙ্গাপুরের অর্ধেকের বেশি পরিবারকে উলবাকিয়া কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশেও আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।