০৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি? বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে জ্বালানি, ডলার, বকেয়া ও আস্থার সংকট উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সংসদে অমিত শাহের লেকচার শুনতে আগ্রহী নই: রাহুল গান্ধী লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরে একদিনে তিন জাহাজে হামলা, নিহত ৬; ৩ পাকিস্তানি ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়া হয় এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে, ইরানি হামলার আশঙ্কায় চমকপ্রদ নিরাপত্তা অভিযান তালেবান শাসনে ২৪ লাখ আফগান কিশোরীর মাধ্যমিক শিক্ষা বন্ধ, অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান ইউনেস্কোর বাইডেনের স্বাস্থ্য সংকট ডেমোক্র্যাটদের গভীর রাজনৈতিক সংকটও উন্মোচন করছে লোডশেডিং ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎ অফিসে নিরাপত্তা চেয়ে থানায় আবেদন মশাখালীতে যমুনা এক্সপ্রেস থামিয়ে আন্দোলন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ

সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক

সৃজনশীল সমাজ গড়ার কথা প্রায়ই বলা হয়। নতুন ধারণা, উদ্ভাবন ও কল্পনাশক্তিকে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে যখন কোনো শিল্পী প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তখন সেই সৃজনশীলতাকে কতটা গ্রহণ করা হয়—সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে সিঙ্গাপুরে।

সম্প্রতি শিল্পী মার্কাস প্যাং মাউন্টব্যাটেন এমআরটি স্টেশনের বাইরে একটি ফুটপাতে ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পকর্ম তৈরি করছিলেন। পানি ও উচ্চচাপের যন্ত্র ব্যবহার করে ময়লা পরিষ্কার করে ছবি আঁকার এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু কাজটি শেষ হওয়ার আগেই সেটি মুছে ফেলা হয়, যা নতুন করে শিল্পচর্চা ও জনপরিসর ব্যবহারের সীমা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

জনপরিসরে শিল্পের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কাস প্যাংয়ের ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর সিঙ্গাপুরে জনপরিসরে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ঘিরে একাধিক বিতর্ক দেখা গেছে। কোথাও নৃত্যশিল্পীদের অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে, আবার কোথাও জনমনে বিতর্কের কারণে দেয়ালচিত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Commentary: PISA debate reveals Singaporeans may have limiting beliefs  about creativity - CNA

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, সমাজ কি সত্যিই নতুন ও ভিন্নধর্মী শিল্পচর্চাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত, নাকি অস্বস্তিকর বা অপ্রচলিত কিছু দেখলেই তা সরিয়ে দেওয়াই প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়?

উদ্ভাবনের জন্য যেমন সুযোগ দরকার, শিল্পের ক্ষেত্রেও তেমন

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ভাবন কখনও একদিনে সফল হয় না। নতুন ধারণা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগোয়। ব্যবসা, প্রযুক্তি কিংবা শিক্ষা খাতে যেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তেমনি শিল্পের ক্ষেত্রেও সৃজনশীল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

শিল্পীরা প্রায়ই নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করেন, যা শুরুতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কাজই সমাজে নতুন আলোচনা, ভাবনা কিংবা সাংস্কৃতিক মূল্য তৈরি করতে পারে।

শিল্প সবসময় আরামদায়ক হয় না

জনপরিসর সবার জন্য, তাই নিরাপত্তা, চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েও অনেকের মতে, ভিন্নধর্মী শিল্পকর্মকে শুরুতেই বাধা দেওয়ার পরিবর্তে সংলাপ ও বোঝাপড়ার পথ খোঁজা উচিত।

Commentary: PISA debate reveals Singaporeans may have limiting beliefs  about creativity - CNA

শিল্পের অন্যতম কাজ হলো পরিচিত বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করা। কখনও তা আনন্দ দেয়, কখনও প্রশ্ন তোলে, আবার কখনও মতভেদ সৃষ্টি করে। কিন্তু এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শিল্পের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়।

ভবিষ্যতের জন্য সৃজনশীলতার পরিবেশ জরুরি

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সৃজনশীলতা, মৌলিক চিন্তা ও নতুন ধারণা তৈরির সক্ষমতাকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় শিল্পচর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত হলে সমাজের সৃজনশীল শক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনেক বিখ্যাত শিল্পধারা একসময় প্রান্তিক বা অনুমোদনহীন উদ্যোগ হিসেবেই শুরু হয়েছিল। পরে সেগুলোই শহরের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তাই কোনো সৃজনশীল উদ্যোগের মূল্য সৃষ্টি হওয়ার আগেই তা সরিয়ে দিলে সম্ভাবনাময় অনেক ধারণা হারিয়ে যেতে পারে।

সিঙ্গাপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সৃজনশীলতাকে সত্যিকার অর্থে মূল্য দিতে হলে শুধু সফল ফলাফল নয়, বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল এবং অসম্পূর্ণতাকেও জায়গা দিতে হবে। কারণ নতুন চিন্তার জন্ম হয় ঠিক সেই জায়গাগুলো থেকেই।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির পাকিস্তান নীতি: সংলাপহীনতার আড়ালে কি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?

সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক

০১:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

সৃজনশীল সমাজ গড়ার কথা প্রায়ই বলা হয়। নতুন ধারণা, উদ্ভাবন ও কল্পনাশক্তিকে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগও নেওয়া হয়। তবে বাস্তবে যখন কোনো শিল্পী প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করেন, তখন সেই সৃজনশীলতাকে কতটা গ্রহণ করা হয়—সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে সিঙ্গাপুরে।

সম্প্রতি শিল্পী মার্কাস প্যাং মাউন্টব্যাটেন এমআরটি স্টেশনের বাইরে একটি ফুটপাতে ব্যতিক্রমধর্মী শিল্পকর্ম তৈরি করছিলেন। পানি ও উচ্চচাপের যন্ত্র ব্যবহার করে ময়লা পরিষ্কার করে ছবি আঁকার এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। কিন্তু কাজটি শেষ হওয়ার আগেই সেটি মুছে ফেলা হয়, যা নতুন করে শিল্পচর্চা ও জনপরিসর ব্যবহারের সীমা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

জনপরিসরে শিল্পের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কাস প্যাংয়ের ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর সিঙ্গাপুরে জনপরিসরে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ঘিরে একাধিক বিতর্ক দেখা গেছে। কোথাও নৃত্যশিল্পীদের অনুশীলনের জন্য ব্যবহৃত স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে, আবার কোথাও জনমনে বিতর্কের কারণে দেয়ালচিত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Commentary: PISA debate reveals Singaporeans may have limiting beliefs  about creativity - CNA

এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, সমাজ কি সত্যিই নতুন ও ভিন্নধর্মী শিল্পচর্চাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত, নাকি অস্বস্তিকর বা অপ্রচলিত কিছু দেখলেই তা সরিয়ে দেওয়াই প্রথম প্রতিক্রিয়া হয়ে দাঁড়ায়?

উদ্ভাবনের জন্য যেমন সুযোগ দরকার, শিল্পের ক্ষেত্রেও তেমন

বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ভাবন কখনও একদিনে সফল হয় না। নতুন ধারণা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এগোয়। ব্যবসা, প্রযুক্তি কিংবা শিক্ষা খাতে যেমন পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তেমনি শিল্পের ক্ষেত্রেও সৃজনশীল পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

শিল্পীরা প্রায়ই নতুন ভাবনা নিয়ে কাজ করেন, যা শুরুতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কাজই সমাজে নতুন আলোচনা, ভাবনা কিংবা সাংস্কৃতিক মূল্য তৈরি করতে পারে।

শিল্প সবসময় আরামদায়ক হয় না

জনপরিসর সবার জন্য, তাই নিরাপত্তা, চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়গুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েও অনেকের মতে, ভিন্নধর্মী শিল্পকর্মকে শুরুতেই বাধা দেওয়ার পরিবর্তে সংলাপ ও বোঝাপড়ার পথ খোঁজা উচিত।

Commentary: PISA debate reveals Singaporeans may have limiting beliefs  about creativity - CNA

শিল্পের অন্যতম কাজ হলো পরিচিত বাস্তবতাকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করা। কখনও তা আনন্দ দেয়, কখনও প্রশ্ন তোলে, আবার কখনও মতভেদ সৃষ্টি করে। কিন্তু এসব প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শিল্পের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়।

ভবিষ্যতের জন্য সৃজনশীলতার পরিবেশ জরুরি

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে সৃজনশীলতা, মৌলিক চিন্তা ও নতুন ধারণা তৈরির সক্ষমতাকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় শিল্পচর্চার ক্ষেত্র সংকুচিত হলে সমাজের সৃজনশীল শক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনেক বিখ্যাত শিল্পধারা একসময় প্রান্তিক বা অনুমোদনহীন উদ্যোগ হিসেবেই শুরু হয়েছিল। পরে সেগুলোই শহরের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তাই কোনো সৃজনশীল উদ্যোগের মূল্য সৃষ্টি হওয়ার আগেই তা সরিয়ে দিলে সম্ভাবনাময় অনেক ধারণা হারিয়ে যেতে পারে।

সিঙ্গাপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, সৃজনশীলতাকে সত্যিকার অর্থে মূল্য দিতে হলে শুধু সফল ফলাফল নয়, বরং পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ভুল এবং অসম্পূর্ণতাকেও জায়গা দিতে হবে। কারণ নতুন চিন্তার জন্ম হয় ঠিক সেই জায়গাগুলো থেকেই।