খামেনি নিহত হওয়ার একদিনের মাথায় ইরানের রাজধানী তেহরানে আবারও বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, কেঁপে উঠেছে বিশ্ববাজার।
তেহরানে ইসরায়েলের নতুন হামলা
ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের আকাশসীমায় তারা কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। গোয়েন্দা ও সামরিক কমান্ড কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক দফায় হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের লক্ষ্য ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে দুর্বল করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়া।
ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান চালাতে প্রস্তুত।

পাল্টা আঘাতে ইরান, উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তিনটি তেলবাহী জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুবাইসহ উপসাগরীয় শহরে আতঙ্ক
দুবাই, আবুধাবি ও দোহায় হামলার কারণে আকাশপথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সামুদ্রিক পথে শত শত জাহাজ নোঙর করে অপেক্ষা করছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খামেনি নিহত, ক্ষমতায় নেতৃত্ব কাউন্সিল
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটিতে তৈরি হয়েছে ক্ষমতার শূন্যতা। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের এক সদস্যকে নিয়ে গঠিত একটি নেতৃত্ব কাউন্সিল অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব নিয়েছে।
খামেনির দীর্ঘ ৩৬ বছরের শাসনামলে ইরান আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হয়। তবে তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে শোক ও উল্লাস—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা গেছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন নিয়ে আগেই দেশটিতে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও রাজনৈতিক চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলায় এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র এক-চতুর্থাংশ নাগরিক এই সামরিক অভিযানের পক্ষে। ফলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে।

আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক উদ্বেগ
রাশিয়া ও চীন খামেনির হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তান ও ইরাকে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। করাচি ও বাগদাদে সহিংসতায় প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হলেও দেশটির ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা এবং বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব দ্রুত ভেঙে পড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা পুরো অঞ্চলকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















