ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রথমবারের মতো প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রবিবার জানানো হয়েছে, অভিযানের দ্বিতীয় দিনে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও পাঁচজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকজন সামান্য আহত সেনাকে চিকিৎসা দিয়ে দায়িত্বে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দ্বিতীয় দিনেই এই হতাহতের ঘটনা সামনে আসে। ইতোমধ্যে সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চল এখন চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতি
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রধান সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা চলমান আছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ছররা ও বিস্ফোরণের অভিঘাতে আঘাত লেগেছে। তবে কীভাবে তিন সেনা নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। রবিবার সকালে ইরান দাবি করে, তারা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে আব্রাহাম লিংকন রণতরীতে আঘাত হেনেছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, রণতরীটি অক্ষত রয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা
ক্ষমতায় ফেরার পর বড় ধরনের সামরিক অভিযানে এবারই প্রথম প্রাণহানির মুখ দেখল যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা কিংবা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা নিহত হননি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যুদ্ধে হতাহতের ঝুঁকি থাকেই। তিনি দাবি করেন, অঞ্চলে মোতায়েন সেনাদের ঝুঁকি কমাতে প্রশাসন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবুও ইরানি শাসনব্যবস্থা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংঘাতের ভবিষ্যৎ কোন পথে
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রাণহানি সংঘাতকে আরও দীর্ঘ ও জটিল করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে, আবার ইরানও পাল্টা আঘাত জোরদার করতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















