ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে এক বহুতল ভবনে আঘাত হানার ঘটনায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারীরা। আহত হয়েছেন কয়েক ডজন মানুষ, যাদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে।
রবিবার ভোরে শুরু হওয়া এই হামলার পর দেশজুড়ে একের পর এক সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের রাত থেকে চলমান হামলায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০, যদিও বেশিরভাগের আঘাত তুলনামূলক হালকা।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত আবাসিক ভবন
হামলায় বেইত শেমেশে অন্তত আটটি আবাসিক ইউনিট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একটি আশ্রয়কেন্দ্রের ছাদ ধসে পড়ায় সেখানে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন নিহত হন। অন্যরা ভবনের বাইরে প্রাণ হারান। তবু সামরিক হোম ফ্রন্ট কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল শাই ক্লেপার নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ কক্ষে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরাসরি আঘাত না লাগলে এসব স্থান জীবন রক্ষা করতে সক্ষম।

উদ্ধার তৎপরতা ও হাসপাতালের চিত্র
ঘটনার পর প্রায় ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল, চিকিৎসাকর্মী এবং হেলিকপ্টার নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়। জেরুজালেমের হাদাসা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে অন্তত ৩৫ জন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজন শিশু।
তেল আবিবে পৃথক এক ঘটনায় সাইরেন বাজার সময় নিরাপদ কক্ষে যাওয়ার পথে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ষাটোর্ধ্ব এক নারী মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি
রবিবার ভোরে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গতি ও পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। দেশজুড়ে একের পর এক সতর্ক সংকেত বাজতে থাকে। সামরিক সূত্র জানায়, এবারের হামলার তীব্রতা সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে নজিরবিহীন।
তেহরান এই দফার সংঘাতে প্রায় আড়াই হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গত বছরের সংঘাতে প্রতিদিন যেখানে প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হতো, তা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও সতর্কতা
হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, আগের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্কতা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার ১০ থেকে ২০ মিনিট আগে সাধারণ সতর্কবার্তা এবং আঘাতের প্রায় দেড় মিনিট আগে সাইরেন বাজানোর পদ্ধতি অনেক প্রাণ বাঁচাচ্ছে।
বর্তমানে দেশজুড়ে আকাশপথে যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ, কেবল জরুরি সেবা চালু রয়েছে। পরিস্থিতি প্রতিদিন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এই হামলার প্রেক্ষাপটে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘাঁটি আরও দূরে সরিয়ে নিতে সামরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















