০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে হামলা—বিশ্ববাজারে দামের আগুন জ্বলার শঙ্কা ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, নেমে যাবে ইসরাইলের জিডিপি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল: ভারতের মুখোমুখি ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার হবার আশঙ্কা নিউইয়র্ক টাইমসের মতে খামেনির মৃত্যু ও ইরানের শাসন ব্যবস্থা ইরানে বোমা বর্ষণ, স্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি নাকি নতুন অস্থিরতার শুরু? দুবাইয়ে সোনার দাম গ্রামপ্রতি  আজ ৬৫০ দিরহাম ছুঁতে পারে খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও কুপিয়ে হামলা, হাসপাতালে নেওয়ার পথে যুবকের মৃত্যু পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তুমুল সংঘর্ষ, বাগরাম ঘাঁটিতেও বিমান হামলার অভিযোগ পাঁচ বিভাগে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা: আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস

ইউরোপ কি আর ‘ভূরাজনৈতিক পাঞ্চিং ব্যাগ’ নয়? যুক্তরাষ্ট্র-চীনের চাপের জবাবে পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপ যেন বিশ্ব রাজনীতির রিংয়ে দাঁড়িয়ে কেবল আঘাতই সহ্য করেছে। পূর্ব দিক থেকে অর্থনৈতিক চাপ, পশ্চিম দিক থেকে কূটনৈতিক ধাক্কা—সব মিলিয়ে ইউরোপকে অনেকেই এখন বিশ্বের ‘ভূরাজনৈতিক পাঞ্চিং ব্যাগ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, এবার হয়তো পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

Israel, the global political punching bag that punches back

পূর্ব-পশ্চিমের চাপে কোণঠাসা ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে তাঁর আগ্রহ ইউরোপের কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহে আকস্মিক বাধা দিয়ে ইউরোপের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে ইউরোপের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত একসঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে।

এই দুই দিকের চাপের মুখে এতদিন ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল অপেক্ষাকৃত নীরব ও সতর্ক। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইউরোপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে, কিন্তু সরাসরি পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পিছিয়েছে।

How Europe became 'collateral damage' in the US-China trade war

পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত

তবে গত সপ্তাহে নতুন করে শুল্কের হুমকি সামনে আসার পর ইউরোপজুড়ে একাধিক নীতিগত প্রস্তাব, পরিসংখ্যান ও কৌশলগত নকশা সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের হাতে রয়েছে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো। ডিজিটাল বাজার, প্রতিযোগিতা আইন, পরিবেশ মানদণ্ড এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধ—এসব ক্ষেত্রেই ইউরোপ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। প্রশ্ন এখন একটাই, ইউরোপ কি সত্যিই সেই শক্তি প্রয়োগ করবে?

Why Taiwan remains an integral part of the EU-US cooperation on China|International|2021-06-12|web  only

আত্মরক্ষার কৌশল থেকে আত্মপ্রকাশ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউরোপের সামনে দুটি পথ খোলা। একদিকে চাপ সহ্য করে সমঝোতার পথ খোঁজা, অন্যদিকে কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এর আলোচনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ইউরোপ সত্যিই পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তবে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে।

What will make or break the European Union in 2026?

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?

ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে বহুপাক্ষিকতা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাণিজ্য যুদ্ধ ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় তাকে নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, ইউরোপ কি আর ‘ভূরাজনৈতিক পাঞ্চিং ব্যাগ’ হয়ে থাকবে, নাকি নিজের স্বার্থ রক্ষায় দৃশ্যমান ও কঠোর অবস্থান নেবে। বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় অনেকটাই নির্ভর করছে সেই সিদ্ধান্তের ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালীতে হামলা—বিশ্ববাজারে দামের আগুন জ্বলার শঙ্কা

ইউরোপ কি আর ‘ভূরাজনৈতিক পাঞ্চিং ব্যাগ’ নয়? যুক্তরাষ্ট্র-চীনের চাপের জবাবে পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি

০২:৩৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপ যেন বিশ্ব রাজনীতির রিংয়ে দাঁড়িয়ে কেবল আঘাতই সহ্য করেছে। পূর্ব দিক থেকে অর্থনৈতিক চাপ, পশ্চিম দিক থেকে কূটনৈতিক ধাক্কা—সব মিলিয়ে ইউরোপকে অনেকেই এখন বিশ্বের ‘ভূরাজনৈতিক পাঞ্চিং ব্যাগ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, এবার হয়তো পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

Israel, the global political punching bag that punches back

পূর্ব-পশ্চিমের চাপে কোণঠাসা ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ইউরোপের অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শুধু তাই নয়, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে তাঁর আগ্রহ ইউরোপের কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

অন্যদিকে চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহে আকস্মিক বাধা দিয়ে ইউরোপের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এতে ইউরোপের জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত একসঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে।

এই দুই দিকের চাপের মুখে এতদিন ইউরোপের প্রতিক্রিয়া ছিল অপেক্ষাকৃত নীরব ও সতর্ক। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইউরোপ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে, কিন্তু সরাসরি পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পিছিয়েছে।

How Europe became 'collateral damage' in the US-China trade war

পাল্টা আঘাতের ইঙ্গিত

তবে গত সপ্তাহে নতুন করে শুল্কের হুমকি সামনে আসার পর ইউরোপজুড়ে একাধিক নীতিগত প্রস্তাব, পরিসংখ্যান ও কৌশলগত নকশা সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের হাতে রয়েছে শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো। ডিজিটাল বাজার, প্রতিযোগিতা আইন, পরিবেশ মানদণ্ড এবং বাণিজ্য বিধিনিষেধ—এসব ক্ষেত্রেই ইউরোপ বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। প্রশ্ন এখন একটাই, ইউরোপ কি সত্যিই সেই শক্তি প্রয়োগ করবে?

Why Taiwan remains an integral part of the EU-US cooperation on China|International|2021-06-12|web  only

আত্মরক্ষার কৌশল থেকে আত্মপ্রকাশ

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউরোপের সামনে দুটি পথ খোলা। একদিকে চাপ সহ্য করে সমঝোতার পথ খোঁজা, অন্যদিকে কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে এখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এর আলোচনা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ইউরোপ সত্যিই পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তবে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আনতে পারে।

What will make or break the European Union in 2026?

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?

ইউরোপ দীর্ঘদিন ধরে বহুপাক্ষিকতা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাণিজ্য যুদ্ধ ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার বাস্তবতায় তাকে নতুন কৌশল নিতে হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, ইউরোপ কি আর ‘ভূরাজনৈতিক পাঞ্চিং ব্যাগ’ হয়ে থাকবে, নাকি নিজের স্বার্থ রক্ষায় দৃশ্যমান ও কঠোর অবস্থান নেবে। বিশ্ব রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায় অনেকটাই নির্ভর করছে সেই সিদ্ধান্তের ওপর।