মধ্যপ্রাচ্যে টানা সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবারও সক্রিয় হয়েছে ওমান। চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার মাঝেই তেহরান আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনায় সম্মত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

উত্তেজনার মধ্যেই সংলাপের ইঙ্গিত
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং সংলাপে ফেরার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। লক্ষ্য একটাই—সব পক্ষের ন্যায্য দাবি মেনে স্থিতিশীলতার পথে ফেরা।
ইরানের পক্ষ থেকেও শান্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, উত্তেজনা থামাতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যেকোনো আন্তরিক উদ্যোগের প্রতি ইরান উন্মুক্ত।

হামলা-পাল্টা হামলায় বাড়ছে চাপ
মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ইরান পাল্টা আঘাত হেনেছে। এর মধ্যেই ওমানের দুqm বন্দরে ইরানি ড্রোন হামলায় এক বিদেশি শ্রমিক আহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে প্রতিবাদ জানায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ পায় রাস্তায়।

ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন মাত্রা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী এবং তিনি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছেন। ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের উচিত ছিল আগেই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া। তবে কবে এবং কার সঙ্গে কথা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি তিনি।

মধ্যস্থতায় ওমানের ভূমিকা
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরেই নিরপেক্ষ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করে আসছে ওমান। মাসকাটে পরোক্ষ আলোচনার আয়োজন করে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালিয়েছে দেশটি। চলতি বছরের শুরু থেকেই জেনেভায় বিভিন্ন বৈঠকের মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ ছিল। সাম্প্রতিক যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হলেও, ওমান তেহরানের আলোচনার আগ্রহের বার্তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় সময়ে কূটনৈতিক আলোচনাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের পথে বাস্তব অগ্রগতি হবে কি না, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















