বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে চলমান বিতর্কে প্রায়ই বলা হয়, মেধা আর বৈচিত্র্যের মধ্যে নাকি এক ধরনের সংঘাত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রশ্নটা আসলে পরিচয় বা মানের নয়, বরং সম্পদের প্রভাব কতটা গভীরভাবে ভর্তির প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটিই মূল বিষয়।

নতুন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে কী দেখা গেল
সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সাফল্য, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্বের অবস্থানে পৌঁছানোর ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার মান, গবেষণায় অবদান, নতুন উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এই চিত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো এগিয়ে থাকলেও উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রভাবে চীনের বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত এগিয়ে আসছে। তবে এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে একটি অস্বস্তিকর সত্য—উচ্চ আয়ের পরিবারের সন্তানরাই এসব প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছে।
নেতৃত্বের পথে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী শীর্ষ বারোটি অভিজাত প্রতিষ্ঠানে পড়লেও দেশের উচ্চ আয়ের শীর্ষ স্তরে তাদের উপস্থিতি অসামান্য। রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা কিংবা বড় ব্যবসা—সবখানেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আধিপত্য স্পষ্ট।
এতে বোঝা যায়, এসব বিশ্ববিদ্যালয় শুধু মেধাবী শিক্ষার্থী বাছাই করে না, তাদের জীবনের গতিপথও বদলে দেয়। একই মানের ফলাফল থাকা সত্ত্বেও যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়, তারা পরবর্তীতে আয় ও প্রভাবের দিক থেকে অনেক এগিয়ে যায়।

সম্পদের প্রভাব কতটা গভীর
তথ্য বলছে, উচ্চ আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীরা ভর্তির ক্ষেত্রে স্পষ্ট সুবিধা পায়। একই পরীক্ষার নম্বর থাকা সত্ত্বেও ধনী পরিবারের শিক্ষার্থীর ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণেরও বেশি। পরিবারের পেশা ও সামাজিক অবস্থানও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
এ সুবিধার পেছনে কাজ করে কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ। প্রাক্তন শিক্ষার্থীর সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া, পাঠ্যবহির্ভূত মূল্যায়নে অতিরিক্ত গুরুত্ব এবং ক্রীড়া কোটা—সব মিলিয়ে ধনী পরিবারের শিক্ষার্থীরা বাড়তি সুবিধা পায়। অথচ গবেষণায় দেখা গেছে, এসব অতিরিক্ত সুবিধা ভবিষ্যৎ সাফল্যের নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেয় না। বরং পরীক্ষার ফল ও একাডেমিক অর্জনই ভবিষ্যৎ সাফল্যের শক্ত নির্দেশক।

মেধাভিত্তিক ভর্তি বাড়ালে কী বদলাবে
বিশ্লেষকদের মতে, মেধার প্রকৃত মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দিলে বৈচিত্র্য বাড়তে পারে। পরিবারিক সম্পদের বদলে শিক্ষার্থীর নিজস্ব অর্জনকে গুরুত্ব দিলে মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর সমাজের প্রতিফলন দেখা যাবে।
বর্তমান সময়ে যখন প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবিশ্বাস বাড়ছে, তখন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক ভর্তি নীতি গ্রহণ করা জরুরি। মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সুযোগের দরজা খুলে দিলে তা শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, গোটা সমাজের জন্যই লাভজনক হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















