০৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা, আড়ালে রইল তাইওয়ান ইস্যুর টানাপোড়েন স্বেচ্ছাসেবায় করপোরেট জাগরণ, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০০ প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চায় সিঙ্গাপুর চীনের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের দাবি ট্রাম্পের, বৈঠকে উঠে এলো ইরান-তাইওয়ান ইস্যুও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, ওয়াশিংটনে সই হলো সমঝোতা স্মারক হাতীবান্ধা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, এলাকাজুড়ে উত্তেজনা এআই যুগে সাইবার যুদ্ধের নতুন আতঙ্ক, হ্যাকারদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বে টালমাটাল লেবার, ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম চীনের সামনে এখন সাম্রাজ্যের সেই পুরোনো ফাঁদ দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে?

শিশুর ঘুম কম হচ্ছে? গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিশু প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমাচ্ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক অভিভাবকই জানেন না তাদের সন্তানের আসলে কতটা ঘুম প্রয়োজন। ফলে তৈরি হচ্ছে ঘুমের ঘাটতি, যার প্রভাব পড়তে পারে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে।

শিশুদের কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সভেদে শিশুদের ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন। নবজাতকের জন্য দৈনিক প্রায় ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। শিশু বয়সে এই সময় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা। টডলার বা ছোট শিশুদের দরকার ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা, প্রাক-প্রাথমিক বয়সে ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং স্কুলগামী শিশুদের প্রয়োজন অন্তত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম।

কিন্তু জরিপ বলছে, প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু নিয়মিতভাবে এই সুপারিশকৃত ঘুম পাচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি আরও বেশি।

When kids don't sleep, parents don't either. Experts share tips for better  family sleep | CNN

পরিবারের ওপরও পড়ছে প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ অভিভাবকই মনে করেন ভালো ঘুম পুরো পরিবারের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য জরুরি। একই সঙ্গে প্রায় ৮০ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, সন্তান ঠিকমতো না ঘুমালে তাদের নিজেদের ঘুমও ব্যাহত হয়।

অভিভাবকদের মতে, শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং দিনের কাজকর্মেও প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ভালো ঘুম শিশুর আচরণ, মনোযোগ ও দৈনন্দিন পারফরম্যান্স উন্নত করে।

অনেক অভিভাবকই জানেন না ঘুমের প্রকৃত প্রয়োজন

জরিপে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানের ঘুম নিয়ে প্রতিদিন ভাবেন। অনেকেই দিনে গড়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন। এমনকি অনেক অভিভাবক বলেছেন, সন্তানের ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে তারা অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত।

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনেক অভিভাবকই শিশুদের প্রকৃত ঘুমের প্রয়োজনকে কম করে অনুমান করেন। বিশেষ করে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে এই ভুল ধারণা বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় সময়ের তুলনায় এক ঘণ্টারও বেশি কম ঘুম হচ্ছে।

Kids need more sleep than many parents think. How to fix the bedtime gap |  Health | phillytrib.com

শিশুদের সঙ্গে ঘুম নিয়ে আলোচনা কম

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক পরিবারে ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে শিশুদের সঙ্গে তেমন আলোচনা হয় না। প্রায় অর্ধেক অভিভাবকই বলেছেন, তারা খুব কম বা কখনওই এ বিষয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি জটিলভাবে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। সহজভাবে বলা যেতে পারে যে ঘুম শরীরকে বড় হতে সাহায্য করে, মস্তিষ্ককে শেখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং মন ভালো রাখতে সহায়তা করে।

দুপুরের ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দিনের ঘুম বা দুপুরের ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক বছরের কম বয়সী প্রায় ৯৩ শতাংশ শিশু নিয়মিত দিনের বেলা ঘুমায়। এক থেকে দুই বছরের শিশুদের মধ্যে এই হার প্রায় ৯২ শতাংশ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস কমতে থাকে। তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের প্রায় অর্ধেক এবং স্কুলগামী শিশুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখনও দুপুরে ঘুমায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনেক অভিভাবক রাতে ভালো ঘুমের আশায় দুপুরের ঘুম বন্ধ করে দেন। কিন্তু এতে উল্টো সমস্যা হতে পারে। শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাতে আরও অস্থির হয়ে যেতে পারে।

How to manage your kids- different sleep schedules - Today's Parent

নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে নিয়মিত সময় মেনে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, আলো কমিয়ে দেওয়া, শান্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং ঘুমানোর আগে গল্প পড়া বা শান্ত কোনো কাজ করা শিশুদের ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া ঘুমানোর আগে উত্তেজনাপূর্ণ ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার না করা এবং দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুদের সামনে বড়রাও যেন ঘুমকে গুরুত্ব দেন। কারণ শিশুরা পরিবারের সদস্যদের দেখেই ঘুমের অভ্যাস শেখে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শি-ট্রাম্প বৈঠকে বাণিজ্য ও স্থিতিশীলতার বার্তা, আড়ালে রইল তাইওয়ান ইস্যুর টানাপোড়েন

শিশুর ঘুম কম হচ্ছে? গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

০১:০০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিশু প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমাচ্ছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, অনেক অভিভাবকই জানেন না তাদের সন্তানের আসলে কতটা ঘুম প্রয়োজন। ফলে তৈরি হচ্ছে ঘুমের ঘাটতি, যার প্রভাব পড়তে পারে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে।

শিশুদের কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সভেদে শিশুদের ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন। নবজাতকের জন্য দৈনিক প্রায় ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। শিশু বয়সে এই সময় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা। টডলার বা ছোট শিশুদের দরকার ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা, প্রাক-প্রাথমিক বয়সে ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা এবং স্কুলগামী শিশুদের প্রয়োজন অন্তত ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুম।

কিন্তু জরিপ বলছে, প্রায় ৪৪ শতাংশ শিশু নিয়মিতভাবে এই সুপারিশকৃত ঘুম পাচ্ছে না। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি আরও বেশি।

When kids don't sleep, parents don't either. Experts share tips for better  family sleep | CNN

পরিবারের ওপরও পড়ছে প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯৫ শতাংশ অভিভাবকই মনে করেন ভালো ঘুম পুরো পরিবারের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য জরুরি। একই সঙ্গে প্রায় ৮০ শতাংশ অভিভাবক বলেছেন, সন্তান ঠিকমতো না ঘুমালে তাদের নিজেদের ঘুমও ব্যাহত হয়।

অভিভাবকদের মতে, শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তার মেজাজ খারাপ হয়ে যায় এবং দিনের কাজকর্মেও প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে ভালো ঘুম শিশুর আচরণ, মনোযোগ ও দৈনন্দিন পারফরম্যান্স উন্নত করে।

অনেক অভিভাবকই জানেন না ঘুমের প্রকৃত প্রয়োজন

জরিপে আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানের ঘুম নিয়ে প্রতিদিন ভাবেন। অনেকেই দিনে গড়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেন। এমনকি অনেক অভিভাবক বলেছেন, সন্তানের ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে তারা অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত।

তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অনেক অভিভাবকই শিশুদের প্রকৃত ঘুমের প্রয়োজনকে কম করে অনুমান করেন। বিশেষ করে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাসে এই ভুল ধারণা বেশি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় সময়ের তুলনায় এক ঘণ্টারও বেশি কম ঘুম হচ্ছে।

Kids need more sleep than many parents think. How to fix the bedtime gap |  Health | phillytrib.com

শিশুদের সঙ্গে ঘুম নিয়ে আলোচনা কম

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক পরিবারে ঘুমের গুরুত্ব নিয়ে শিশুদের সঙ্গে তেমন আলোচনা হয় না। প্রায় অর্ধেক অভিভাবকই বলেছেন, তারা খুব কম বা কখনওই এ বিষয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি জটিলভাবে বোঝানোর প্রয়োজন নেই। সহজভাবে বলা যেতে পারে যে ঘুম শরীরকে বড় হতে সাহায্য করে, মস্তিষ্ককে শেখার ক্ষমতা বাড়ায় এবং মন ভালো রাখতে সহায়তা করে।

দুপুরের ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ

ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে দিনের ঘুম বা দুপুরের ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক বছরের কম বয়সী প্রায় ৯৩ শতাংশ শিশু নিয়মিত দিনের বেলা ঘুমায়। এক থেকে দুই বছরের শিশুদের মধ্যে এই হার প্রায় ৯২ শতাংশ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস কমতে থাকে। তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের প্রায় অর্ধেক এবং স্কুলগামী শিশুদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এখনও দুপুরে ঘুমায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনেক অভিভাবক রাতে ভালো ঘুমের আশায় দুপুরের ঘুম বন্ধ করে দেন। কিন্তু এতে উল্টো সমস্যা হতে পারে। শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাতে আরও অস্থির হয়ে যেতে পারে।

How to manage your kids- different sleep schedules - Today's Parent

নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে নিয়মিত সময় মেনে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, আলো কমিয়ে দেওয়া, শান্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং ঘুমানোর আগে গল্প পড়া বা শান্ত কোনো কাজ করা শিশুদের ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া ঘুমানোর আগে উত্তেজনাপূর্ণ ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার না করা এবং দিনের শুরুতে প্রাকৃতিক আলোতে সময় কাটানো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুদের সামনে বড়রাও যেন ঘুমকে গুরুত্ব দেন। কারণ শিশুরা পরিবারের সদস্যদের দেখেই ঘুমের অভ্যাস শেখে।