ঈদের আগমনী আনন্দে রঙে রঙিন হয়ে উঠল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। “মেহেদির রঙে শুরু হোক ঈদের আনন্দ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত হলো বর্ণিল মেহেদি উৎসব। উৎসব ঘিরে দিনভর আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস।
শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলিপ্যাড এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি আবাসিক হলের উদ্যমী ছাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন অসংখ্য শিক্ষার্থী।
উৎসবের রঙে ছাত্রীদের মিলনমেলা
ক্যাম্পাসজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ। মেহেদির নকশা আঁকার মধ্য দিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ঈদের আগাম আনন্দ। একে অপরের হাতে মেহেদি লাগিয়ে তারা উপভোগ করেন উৎসবের বিশেষ মুহূর্ত।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাসমিয়া ফাইরুজ বলেন, ক্যাম্পাসে এমন একটি সুন্দর উৎসবের আয়োজন আমাদের খুব আনন্দ দিয়েছে। চারপাশে এখন উৎসবের পরিবেশ। এই মেহেদি উৎসবের মাধ্যমে মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ আগেই ক্যাম্পাসে চলে এসেছে। নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে এমন আয়োজন সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা।
সামাজিক মাধ্যমে মেহেদি নকশার প্রতিযোগিতা
উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে মেহেদির নকশা নিয়ে একটি অনলাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মেহেদি নকশার ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ছবিগুলোতে মানুষের প্রতিক্রিয়া ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়।
লটারিতে পুরস্কার পেলেন ভাগ্যবানরা
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কুপনের মাধ্যমে লটারির ব্যবস্থাও রাখা হয়। এই লটারিতে দশজন সৌভাগ্যবান শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এতে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে।
ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, একসময় গ্রামবাংলায় গাছ থেকে মেহেদি পাতা তুলে নিজেরা হাতে লাগানোর একটি সুন্দর ঐতিহ্য ছিল। কিন্তু ব্যস্ত নগরজীবনে সেই ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
এই আয়োজনের মাধ্যমে সেই পুরোনো সংস্কৃতিকে আবারও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে সবাই একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে।

ভবিষ্যতে বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসব ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















