গত তিন দশকে ভারতে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে রোগটির হার দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসার সুযোগ ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক রোগী এখনও সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্যান্সার বিষয়ক এক সম্মেলনে চিকিৎসক ও গবেষকেরা এ তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তারা বলেন, দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিয়মিত পরীক্ষা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
স্তন ক্যান্সারের হার দ্রুত বাড়ছে
বিশেষজ্ঞদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে প্রায় ১৩ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতেন। কিন্তু ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি এক লাখে ২৯ দশমিক ৪ জনে।
চিকিৎসকদের মতে, সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষার কারণে অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে সমাজে কিছু জীবনধারা পরিবর্তনও রোগ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে তারা মনে করছেন।

কোন কারণগুলো বাড়াচ্ছে ঝুঁকি
চিকিৎসকদের মতে, আধুনিক জীবনযাত্রার বেশ কিছু পরিবর্তন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, অ্যালকোহল সেবন, তামাক ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার অভ্যাস।
যদিও নারীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়, তবুও পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সার হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। তাই নারী ও পুরুষ উভয়েরই নিয়মিত পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রাথমিক পর্যায়েই রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগে বড় বৈষম্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ এখনও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। উন্নত ওষুধ এবং চিকিৎসা পদ্ধতি থাকলেও সেগুলো অনেক সময় দূরবর্তী এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছায় না।
চিকিৎসকেরা মনে করেন, চিকিৎসা তখনই কার্যকর হয় যখন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে পারে। এজন্য সরকারি কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রোগীর পরিবারের জন্য নতুন উদ্যোগ
চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে রোগীর পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এজন্য কিছু হাসপাতালে রোগীর নিকট আত্মীয় বা সেবাদানকারীকে অস্থায়ী কাজের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে রোগীর পাশে পরিবারের সদস্যরা থাকতে পারছেন এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার হারও বেড়েছে। এতে রোগীর মানসিক সহায়তাও বাড়ছে।

সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার, বিকিরণ চিকিৎসা এবং ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা—এই তিনটির সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রের চিকিৎসকদের যৌথভাবে কাজ করলে রোগীর জন্য চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়।
তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় হলে চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নতি দ্রুত হয় এবং রোগীরাও তার সুফল পায়।
সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ
সম্মেলনে ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে একটি নতুন সামাজিক উদ্যোগও চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন করা এবং রোগীদের জন্য শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থা তৈরি করা।
গবেষণার কাজকে এগিয়ে নিতে কয়েকজন তরুণ গবেষককেও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাদের গবেষণা উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















