০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
আসামে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, চার বিয়েতে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে এলপিজির কালোবাজারি বিস্তার, পুলিশের অভিযানে হাজারের বেশি সিলিন্ডার জব্দ রিজার্ভে ধাক্কা: দুই সপ্তাহে কমে ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার, অর্থনীতিতে নতুন চাপ মধ্য-এপ্রিলের মধ্যে হরমুজ না খুললে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হবে: তেল শিল্পের সতর্কবার্তা ইরান মার্কিন শর্ত মানতে রাজি, তবে খার্গ দ্বীপ দখলের ভাবনায় ট্রাম্প হরমুজ সংকটের আঘাতে বাংলাদেশ: বার্ষিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়বে ৪৮০ কোটি ডলার ইসলামাবাদে চার দেশের কূটনীতি: পাকিস্তান মার্কিন-ইরান সরাসরি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিল বঙ্গের ধাঁধা — সামাজিক অগ্রগতি কেন উচ্চ আয়ে রূপান্তরিত হয়নি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার উদ্যোগে পাকিস্তান, চীনের সমর্থন চাইতে বেইজিং সফরে ইসহাক দার ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয়

গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন আইনে জটিলতা, বাস্তবায়ন শুরু কবে—এখনও অনিশ্চয়তা

ভারতের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন বাস্তবায়নের পথ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সরকার আইনটি পাস করলেও এর কার্যকরী বিধিমালা ও বিভিন্ন নীতিগত কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে আইনটি কবে থেকে মাঠপর্যায়ে চালু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত না হলে নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা সম্ভব হবে না।

নতুন আইনের পেছনের লক্ষ্য

গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে ২০২৫ সালে “বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)” আইন পাস হয়। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সংসদে উত্থাপনের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়।

Restrict, Dismantle, Repeal': How Modi Government Killed MGNREGA Before  VB-G Ram G Was Tabled - The Wire

এই আইন কার্যকর হলে বহু বছর ধরে চালু থাকা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ২০০৫–এর জায়গা নেবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মসূচি গ্রামীণ দরিদ্রদের কাজের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তহবিল বণ্টনের সূত্র এখনও নির্ধারিত নয়

নতুন আইনের সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি হলো রাজ্যভিত্তিক তহবিল বণ্টনের সূত্র নির্ধারণ। আইন অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে রাজ্যগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দ ঠিক করবে।

তবে সেই মানদণ্ড বা উদ্দেশ্যভিত্তিক সূচক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার কয়েকটি রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তারা তুলনামূলক কম অর্থ পায়। নতুন আইনের লক্ষ্য সেই বৈষম্য কমানো।

তবে বিতর্কও রয়েছে। কিছু রাজ্য বলছে, আগের কর্মসূচিতে তাদের ভালো পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আবার অন্য রাজ্যগুলোর দাবি, যেখানে গ্রামীণ শ্রমিকদের অভিবাসন বেশি এবং কাজের চাহিদা বেশি—সেসব জায়গাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

Panchayats, Municipalities & Co-operative Societies:All you want to know

গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন শ্রেণিবিন্যাস

আইন অনুযায়ী দেশের সব গ্রাম পঞ্চায়েতকে উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে—এ, বি ও সি।

এই শ্রেণিবিন্যাসে কী ধরনের সূচক ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। আইনে কেবল একটি উদাহরণ হিসেবে শহরের কাছাকাছি অবস্থানকে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সূচক নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচি চালুর আগে রাজ্য সরকারগুলোর কিছু মৌলিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

G-RAM-G Is A Work Guarantee Without Any Guarantee' - Rediff.com

প্রথমত, আগের কর্মসূচির অধীনে চলমান কাজগুলো শেষ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব রাজ্যকে একটি ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হবে যাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করা যায়। এই ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই আর্থিক দায়ভার ভাগ করে নেবে।

এছাড়া কর্মসংস্থান কার্ডধারীদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াও শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি ভূতাত্ত্বিক পরিকল্পনা পোর্টালে যুক্ত হয়ে গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে।

চালু হতে দেরির সম্ভাবনা

সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ এপ্রিলের মধ্যে নতুন আইন চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারগুলোকে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবে চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামে তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় এলে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, চার বিয়েতে নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত

গ্রামীণ কর্মসংস্থানের নতুন আইনে জটিলতা, বাস্তবায়ন শুরু কবে—এখনও অনিশ্চয়তা

০৫:১৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

ভারতের নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান আইন বাস্তবায়নের পথ এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সরকার আইনটি পাস করলেও এর কার্যকরী বিধিমালা ও বিভিন্ন নীতিগত কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে আইনটি কবে থেকে মাঠপর্যায়ে চালু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সরকারি সূত্র বলছে, কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে রাজ্য সরকারগুলোর সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এসব বিষয় চূড়ান্ত না হলে নতুন কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করা সম্ভব হবে না।

নতুন আইনের পেছনের লক্ষ্য

গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে ২০২৫ সালে “বিকশিত ভারত—গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)” আইন পাস হয়। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সংসদে উত্থাপনের মাত্র দুই দিনের মধ্যেই এটি অনুমোদন পায়।

Restrict, Dismantle, Repeal': How Modi Government Killed MGNREGA Before  VB-G Ram G Was Tabled - The Wire

এই আইন কার্যকর হলে বহু বছর ধরে চালু থাকা মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন ২০০৫–এর জায়গা নেবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মসূচি গ্রামীণ দরিদ্রদের কাজের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তহবিল বণ্টনের সূত্র এখনও নির্ধারিত নয়

নতুন আইনের সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি হলো রাজ্যভিত্তিক তহবিল বণ্টনের সূত্র নির্ধারণ। আইন অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে রাজ্যগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দ ঠিক করবে।

তবে সেই মানদণ্ড বা উদ্দেশ্যভিত্তিক সূচক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার কয়েকটি রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে তারা তুলনামূলক কম অর্থ পায়। নতুন আইনের লক্ষ্য সেই বৈষম্য কমানো।

তবে বিতর্কও রয়েছে। কিছু রাজ্য বলছে, আগের কর্মসূচিতে তাদের ভালো পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া উচিত। আবার অন্য রাজ্যগুলোর দাবি, যেখানে গ্রামীণ শ্রমিকদের অভিবাসন বেশি এবং কাজের চাহিদা বেশি—সেসব জায়গাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

Panchayats, Municipalities & Co-operative Societies:All you want to know

গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন শ্রেণিবিন্যাস

আইন অনুযায়ী দেশের সব গ্রাম পঞ্চায়েতকে উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে—এ, বি ও সি।

এই শ্রেণিবিন্যাসে কী ধরনের সূচক ব্যবহার করা হবে তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। আইনে কেবল একটি উদাহরণ হিসেবে শহরের কাছাকাছি অবস্থানকে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকার বর্তমানে রাজ্যগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এসব সূচক নির্ধারণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন কর্মসূচি চালুর আগে রাজ্য সরকারগুলোর কিছু মৌলিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

G-RAM-G Is A Work Guarantee Without Any Guarantee' - Rediff.com

প্রথমত, আগের কর্মসূচির অধীনে চলমান কাজগুলো শেষ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব রাজ্যকে একটি ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে হবে যাতে সরাসরি অর্থ স্থানান্তর করা যায়। এই ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই আর্থিক দায়ভার ভাগ করে নেবে।

এছাড়া কর্মসংস্থান কার্ডধারীদের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াও শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি ভূতাত্ত্বিক পরিকল্পনা পোর্টালে যুক্ত হয়ে গ্রাম উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হবে।

চালু হতে দেরির সম্ভাবনা

সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ এপ্রিলের মধ্যে নতুন আইন চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর ঘোষণার পর রাজ্য সরকারগুলোকে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবে চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।