০৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
শত্রুর পেছনে ৩২০ কিলোমিটার উড়ে যাবে ব্রিটিশ সেনা, পিঠে থাকবে ‘উড়ন্ত ব্যাগ’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের নিষেধ অমান্য করে ফের খেলার মাঠ সংস্কার ১০ দিনের বিরতির পর ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে এক দিনেই যুক্তরাজ্যে প্রায় ৫০০ অভিবাসী লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের চার অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগ, দোষ স্বীকার চার তরুণের নেপাল-তিব্বত আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩০০ ভারতীয়, স্বপ্নের তীর্থযাত্রায় গিয়ে দুই নারীও নিখোঁজ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে উদযাপনের মতো তেমন কিছু নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধাক্কায় বিশ্ব ভয়াবহ পরিবর্তনের মুখে, প্রস্তুতি নেই: বিল গেটস টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে বোন নূরিন নিয়াজির সাক্ষাৎ যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে কারফিউ ও দৈনিক সময়সীমা পাঞ্জাবে ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসা আরও বিস্তৃত, বসছে পাঁচ নতুন ক্রায়োঅ্যাবলেশন যন্ত্র

ট্রাম্পের ‘বিশ্বাসের লাল দাগ’ পেরিয়েই পদচ্যুত নোয়েম, প্রশাসনে আনুগত্যই কি বড় শর্ত?

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান পদ থেকে ক্রিস্টি নোয়েমকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নীতির চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিগত আস্থাই অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক এক কংগ্রেস শুনানিতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করার পরপরই তার পদচ্যুতি কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

কংগ্রেস শুনানিতে মন্তব্যই কাল হলো

গত সপ্তাহে কংগ্রেসের এক শুনানিতে নোয়েমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে পরিচালিত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন প্রচারণা সম্পর্কে। সেই প্রচারণায় তাকে কেন্দ্র করেই বার্তা তুলে ধরা হয়েছিল।

নোয়েম জবাবে জানান, দেশের মানুষকে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাকে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এই প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই এ নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছিল। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, পুরো বিজ্ঞাপন পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প অবগত ছিলেন এবং অনুমোদনও দিয়েছিলেন।

কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ওই বিজ্ঞাপন চুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এই বক্তব্যে প্রশাসনের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং দ্রুতই নোয়েমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

Fox News fans turn on Kristi Noem as she shares Venezuela update -  Celebrity News - Entertainment - Daily Express US

 

গুরুতর বিতর্কেও টলেননি, কিন্তু ‘দায় চাপানো’ মেনে নেননি ট্রাম্প

নোয়েমের সময়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও সেগুলো তার পদচ্যুতির কারণ হয়নি। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা কিংবা আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ—এসব সত্ত্বেও তিনি পদে বহাল ছিলেন।

এমনকি এক নার্সকে গুলিতে হত্যার ঘটনার পর তাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং অস্ত্র দেখানোর অভিযোগও পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। তবুও তখন তাকে সরানো হয়নি।

কিন্তু কংগ্রেস শুনানিতে ট্রাম্পকে বিজ্ঞাপন প্রচারণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ইঙ্গিত দেওয়াকেই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের এক ধরনের ‘লাল দাগ’ অতিক্রম করা হিসেবে দেখা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনে আনুগত্যই প্রধান মানদণ্ড

সাবেক সীমান্ত সুরক্ষা কমিশনার গিল কেরলিকাওস্কে বলেন, একজন কর্মকর্তার জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ম হলো নিজের ঊর্ধ্বতনকে প্রকাশ্যে দোষারোপ না করা। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হলো ব্যক্তিগত আনুগত্য এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা।

Gil Kerlikowske - Council on Criminal Justice

নীতি বদল নয়, শুধু নেতৃত্বে পরিবর্তন

নোয়েমকে সরালেও প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। অবৈধ অভিবাসন রোধ ও ব্যাপক বহিষ্কার অভিযানের নীতি আগের মতোই চলবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

নোয়েমের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে একই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্বে কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রধান হিসেবে মুলিনকে এক কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে ট্রাম্পের আনুগত্য বজায় রাখা, অন্যদিকে অর্থসংকট ও মনোবলহীনতায় ভোগা বিশাল নিরাপত্তা দপ্তরকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা—এই দুই চ্যালেঞ্জই সামনে থাকবে।

সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব জ্যানেট নাপোলিতানো মনে করেন, এই দপ্তর পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি বিশাল প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্বের কাজ।

এদিকে নোয়েমের বিদায়ে দপ্তরের কিছু অংশে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হলেও অনেক কর্মকর্তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জ্যানেট নাপোলিটানো - উইকিপিডিয়া

 

অভিবাসন নীতি নিয়ে দূরত্বের রাজনীতি

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ট্রাম্পের সেই কৌশলও তুলে ধরছে, যেখানে কোনো নীতি রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে তিনি তার দায় থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। অথচ একই সময়ে কঠোর অভিবাসন নীতিই তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে রয়ে গেছে।

মুলিনের সামনে এখন সেই নীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরের অস্থিরতা সামাল দেওয়ার বড় দায়িত্বও এসে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শত্রুর পেছনে ৩২০ কিলোমিটার উড়ে যাবে ব্রিটিশ সেনা, পিঠে থাকবে ‘উড়ন্ত ব্যাগ’

ট্রাম্পের ‘বিশ্বাসের লাল দাগ’ পেরিয়েই পদচ্যুত নোয়েম, প্রশাসনে আনুগত্যই কি বড় শর্ত?

০৫:৪২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান পদ থেকে ক্রিস্টি নোয়েমকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নীতির চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য ও ব্যক্তিগত আস্থাই অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক এক কংগ্রেস শুনানিতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করার পরপরই তার পদচ্যুতি কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

কংগ্রেস শুনানিতে মন্তব্যই কাল হলো

গত সপ্তাহে কংগ্রেসের এক শুনানিতে নোয়েমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ২০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ে পরিচালিত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন প্রচারণা সম্পর্কে। সেই প্রচারণায় তাকে কেন্দ্র করেই বার্তা তুলে ধরা হয়েছিল।

নোয়েম জবাবে জানান, দেশের মানুষকে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাকে দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং এই প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই এ নিয়ে তাদের আলোচনা হয়েছিল। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, পুরো বিজ্ঞাপন পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প অবগত ছিলেন এবং অনুমোদনও দিয়েছিলেন।

কিন্তু এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ওই বিজ্ঞাপন চুক্তি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। এই বক্তব্যে প্রশাসনের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং দ্রুতই নোয়েমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

Fox News fans turn on Kristi Noem as she shares Venezuela update -  Celebrity News - Entertainment - Daily Express US

 

গুরুতর বিতর্কেও টলেননি, কিন্তু ‘দায় চাপানো’ মেনে নেননি ট্রাম্প

নোয়েমের সময়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও সেগুলো তার পদচ্যুতির কারণ হয়নি। মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা কিংবা আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ—এসব সত্ত্বেও তিনি পদে বহাল ছিলেন।

এমনকি এক নার্সকে গুলিতে হত্যার ঘটনার পর তাকে ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং অস্ত্র দেখানোর অভিযোগও পরে ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। তবুও তখন তাকে সরানো হয়নি।

কিন্তু কংগ্রেস শুনানিতে ট্রাম্পকে বিজ্ঞাপন প্রচারণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ইঙ্গিত দেওয়াকেই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের এক ধরনের ‘লাল দাগ’ অতিক্রম করা হিসেবে দেখা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনে আনুগত্যই প্রধান মানদণ্ড

সাবেক সীমান্ত সুরক্ষা কমিশনার গিল কেরলিকাওস্কে বলেন, একজন কর্মকর্তার জন্য সবচেয়ে বড় নিয়ম হলো নিজের ঊর্ধ্বতনকে প্রকাশ্যে দোষারোপ না করা। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনে এই বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হলো ব্যক্তিগত আনুগত্য এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা।

Gil Kerlikowske - Council on Criminal Justice

নীতি বদল নয়, শুধু নেতৃত্বে পরিবর্তন

নোয়েমকে সরালেও প্রশাসনের অভিবাসন নীতিতে কোনো বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। অবৈধ অভিবাসন রোধ ও ব্যাপক বহিষ্কার অভিযানের নীতি আগের মতোই চলবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

নোয়েমের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ওকলাহোমার রিপাবলিকান সিনেটর মার্কওয়েইন মুলিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে একই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন দায়িত্বে কঠিন ভারসাম্যের পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন প্রধান হিসেবে মুলিনকে এক কঠিন ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে ট্রাম্পের আনুগত্য বজায় রাখা, অন্যদিকে অর্থসংকট ও মনোবলহীনতায় ভোগা বিশাল নিরাপত্তা দপ্তরকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা—এই দুই চ্যালেঞ্জই সামনে থাকবে।

সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব জ্যানেট নাপোলিতানো মনে করেন, এই দপ্তর পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি বিশাল প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্বের কাজ।

এদিকে নোয়েমের বিদায়ে দপ্তরের কিছু অংশে স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হলেও অনেক কর্মকর্তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

জ্যানেট নাপোলিটানো - উইকিপিডিয়া

 

অভিবাসন নীতি নিয়ে দূরত্বের রাজনীতি

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ট্রাম্পের সেই কৌশলও তুলে ধরছে, যেখানে কোনো নীতি রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে তিনি তার দায় থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। অথচ একই সময়ে কঠোর অভিবাসন নীতিই তার প্রশাসনের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে রয়ে গেছে।

মুলিনের সামনে এখন সেই নীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের ভেতরের অস্থিরতা সামাল দেওয়ার বড় দায়িত্বও এসে পড়েছে।