রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে প্রটোকল ভঙ্গ ও নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে। আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে অংশ নিতে দার্জিলিং সফরের সময় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অসন্তোষ প্রকাশের একদিন পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়তে শুরু করেছে।
কেন্দ্রের রিপোর্ট চাওয়ার নির্দেশ
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির সফরকালে প্রটোকল লঙ্ঘন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে।
রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরের পথ এবং অনুষ্ঠানস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ত্রুটি ছিল, তা উল্লেখ করে রবিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়।
রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই নির্দেশিকাকে সাধারণভাবে “ব্লু বুক” বলা হয়, যেখানে সফর পরিচালনার সব নিয়ম নির্ধারিত থাকে।

অনুষ্ঠানে অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক
প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর কথা মুখ্যমন্ত্রী বা জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর। কিন্তু এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাজ্য সরকারের কোনো মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। পরিবর্তে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শনিবার সম্মেলনের ভেন্যু পরিবর্তন এবং রাজ্য সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবমাননা।
নয়াদিল্লিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এটি রাষ্ট্রপতির পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক চেতনারও অপমান। তাঁর ভাষায়, তৃণমূলের অহংকারী রাজনীতি শিগগিরই পরাজিত হবে।
নারী দিবসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এমন একটি দিনে দেশের প্রথম নাগরিকের প্রতি অসম্মান অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
এদিকে সমালোচনার জবাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির বক্তব্য বিজেপির পরামর্শে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, মণিপুরে আদিবাসীদের ওপর কথিত নির্যাতনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির নীরবতা কেন বজায় রয়েছে।

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই হওয়ার কথা। এর আগে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে এই বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাটি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















