ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দার্জিলিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে প্রোটোকল ভঙ্গ এবং স্থান পরিবর্তনের ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে রাষ্ট্রপতির প্রতি অপমান বলে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ছিল বেসরকারি আয়োজক এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে বিতর্ক
দার্জিলিংয়ে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শনিবার সফর করেন। অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠানের স্থান শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে গ্রহণ করার জন্য রাজ্যের গভর্নর, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না।
এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। এর পরই বিষয়টি দ্রুত রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয় এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

মমতার পদত্যাগ দাবি বিজেপির
বিজেপির নেতারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে আসা একজন রাষ্ট্রপতির প্রতি এই আচরণ গোটা আদিবাসী সমাজের প্রতি অপমান বলে দাবি করেন তারা।
মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সংসদ সদস্য খগেন মুর্মু এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। তার মতে, শুধুমাত্র ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়, আদিবাসী সমাজের মর্যাদা রক্ষার জন্য পদত্যাগই একমাত্র পথ।

মমতার পাল্টা জবাব
অভিযোগের জবাবে রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাষ্ট্রপতির সফরে কোনও প্রোটোকল ভঙ্গ হয়নি। যদি কোথাও ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়ে থাকে, তার দায়িত্ব অনুষ্ঠান আয়োজক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।
তিনি আরও বলেন, তার সরকার রাষ্ট্রপতির পদ ও দেশের সংবিধানের প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখায়।

ধর্না ও পাল্টা অভিযোগ
এর মধ্যেই কলকাতায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদও জানান।
এই সময় তিনি একটি ছবি প্রকাশ করেন যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বসে আছেন, আর রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন বলে দেখা যায়। সেই ছবি দেখিয়ে মমতা দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মানের সংস্কৃতি আসলে বিজেপির মধ্যেই রয়েছে।
নির্বাচনের আগে উত্তপ্ত রাজনীতি
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন সামনে থাকায় এই ঘটনাটি দ্রুত রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন ঘটনা। তার অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস শুধু আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানই বয়কট করেনি, রাষ্ট্রপতিকেও অসম্মান করেছে।
মোদি আরও বলেন, আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্বেগকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং এই ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সংবিধানের চেতনাকেও আঘাত করেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















