ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের সামগ্রিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
ডিএসসিসি সচিব মোহাম্মদ নাসিম আহমেদের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান জানান, নির্দেশনাটি জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।
জ্বালানি বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত
সোমবার জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমানো হবে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি সরবরাহ ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালামের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্যয় কমানো এবং বিদ্যমান সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

পাশাপাশি কর্মকর্তাদের সরকারি ও ব্যক্তিগত উভয় কাজেই যানবাহন ব্যবহারে সংযম দেখাতে বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন নির্দেশনা
জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে কঠোর নিয়ম চালু করেছে সিটি করপোরেশন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার না করতে হবে। প্রাকৃতিক আলো সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরজা, জানালা বা পর্দা খোলা রাখতে বলা হয়েছে।
অফিসে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক বাতির অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় আলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখতে হবে।
বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সতর্কতা
ফ্যান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন ছাড়া চালু না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে হবে।

অফিস কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে বাতি, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ করে দেওয়ার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া করিডর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো জ্বালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টার ও স্ক্যানারসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোরতা
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ সব বিভাগ ও আঞ্চলিক কার্যালয়কে এসব নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















