০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
এক প্রশ্নে একমত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান: এআই কি খুব দ্রুত এগোচ্ছে? কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঘিরে বাড়ছে জনঅসন্তোষ, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ভারতের গ্রামে স্মার্টফোন বিপ্লব, বদলে যাচ্ছে শিক্ষা, কাজ আর সামাজিক জীবন ভেনেজুয়েলার সোনার খনিতে নতুন সমীকরণ, মার্কিন তৎপরতায় বদলে যাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য ইউরোপের শিল্প সংকট কি সত্যিই চীনের কারণে? নিজেদের দুর্বলতাই বড় চ্যালেঞ্জ ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে আশা, কিন্তু সংকট কাটাতে দরকার কঠিন সিদ্ধান্ত নীরব জ্ঞান শেখাতে গিয়ে নতুন সংকটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইজিজেটকে ঘিরে অধিগ্রহণ নাটক, ভেঙে বিক্রির শঙ্কায় ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ বাজেট এয়ারলাইন নতুন আতঙ্ক ‘জম্বি ইউনিকর্ন’: সিলিকন ভ্যালিতে কমছে স্টার্টআপের জৌলুস শিশুখাদ্য ফর্মুলা কতটা উপকারী? বিজ্ঞাপনের দাবির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক

মধ্যপ্রাচ্যে বড় নৌবহর পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্স বড় আকারের নৌবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, দেশটির মিত্রদের সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত আরও কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সোমবার সাইপ্রাসে এক সামরিক ঘাঁটিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে মোট ১০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এর আগে থেকেই ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের দুটি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের নৌবাহিনীর এই মোতায়েন নজিরবিহীন।”

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখাও এই মোতায়েনের অন্যতম লক্ষ্য।

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সাইপ্রাস সফর ও বিমানবাহী রণতরীতে বক্তব্য

সাইপ্রাস সফরের সময় ম্যাক্রোঁ ফরাসি বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, এই নৌবহর মূলত তিনটি উদ্দেশ্যে কাজ করবে—মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ফরাসি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ফ্রান্সের মিত্র দেশগুলোকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া।

যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে

ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের তীব্র পর্যায় “আরও কয়েক দিন, হয়তো কয়েক সপ্তাহ” পর্যন্ত চলতে পারে। তবে এর স্থায়িত্ব নির্ভর করবে যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী তার ওপর।

তিনি বলেন, “শুধু আকাশপথে বোমা হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।”

তবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি লক্ষ্য হয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা নৌবাহিনীকে দুর্বল করা, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্ভব হতে পারে।

আন্তর্জাতিক নৌ-এস্কর্ট বাহিনী গঠনের উদ্যোগ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে তিনি একটি আন্তর্জাতিক নৌ-এস্কর্ট বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি ভারতসহ কিছু এশীয় দেশও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, এই মিশন আক্রমণাত্মক নয়।

তিনি বলেন, “এটি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান নয়। এটি মূলত নিরাপত্তা সহায়তা ও জাহাজকে নিরাপদে পথ দেখানোর মিশন।”

কিছুক্ষণ পরেই আসছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

গালফ অঞ্চলে ফ্রান্সের স্বার্থ

ফ্রান্সের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব দেশের ওপর ইরানের আকাশপথের হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় চার লাখ ফরাসি নাগরিক বসবাস করেন। তাদের নিরাপত্তাও ফ্রান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

ইউরোপের জন্য সাইপ্রাসের গুরুত্ব

যুদ্ধের শুরুতে ইরান-নির্মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সাইপ্রাসে হামলা চালানো হয়েছিল। ইউরোপের জন্য এই ঘটনাটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে, কারণ সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র এবং সেখানে ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এক প্রশ্নে একমত ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান: এআই কি খুব দ্রুত এগোচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্যে বড় নৌবহর পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

১১:১৩:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ফ্রান্স বড় আকারের নৌবাহিনী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, দেশটির মিত্রদের সুরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত আরও কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সোমবার সাইপ্রাসে এক সামরিক ঘাঁটিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স পূর্ব ভূমধ্যসাগর, লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে মোট ১০টি যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। এর আগে থেকেই ভূমধ্যসাগরে ফ্রান্সের দুটি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের নৌবাহিনীর এই মোতায়েন নজিরবিহীন।”

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে নিরাপদ রাখাও এই মোতায়েনের অন্যতম লক্ষ্য।

হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

সাইপ্রাস সফর ও বিমানবাহী রণতরীতে বক্তব্য

সাইপ্রাস সফরের সময় ম্যাক্রোঁ ফরাসি বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বলেন, এই নৌবহর মূলত তিনটি উদ্দেশ্যে কাজ করবে—মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ফরাসি নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, ফ্রান্সের মিত্র দেশগুলোকে সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা করা এবং প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়া।

যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে

ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের তীব্র পর্যায় “আরও কয়েক দিন, হয়তো কয়েক সপ্তাহ” পর্যন্ত চলতে পারে। তবে এর স্থায়িত্ব নির্ভর করবে যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী তার ওপর।

তিনি বলেন, “শুধু আকাশপথে বোমা হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বা শাসনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।”

তবে তিনি উল্লেখ করেন, যদি লক্ষ্য হয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বা নৌবাহিনীকে দুর্বল করা, তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা সম্ভব হতে পারে।

আন্তর্জাতিক নৌ-এস্কর্ট বাহিনী গঠনের উদ্যোগ

ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে তিনি একটি আন্তর্জাতিক নৌ-এস্কর্ট বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এতে অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি ভারতসহ কিছু এশীয় দেশও সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে বলেন, এই মিশন আক্রমণাত্মক নয়।

তিনি বলেন, “এটি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযান নয়। এটি মূলত নিরাপত্তা সহায়তা ও জাহাজকে নিরাপদে পথ দেখানোর মিশন।”

কিছুক্ষণ পরেই আসছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ

গালফ অঞ্চলে ফ্রান্সের স্বার্থ

ফ্রান্সের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এসব দেশের ওপর ইরানের আকাশপথের হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় চার লাখ ফরাসি নাগরিক বসবাস করেন। তাদের নিরাপত্তাও ফ্রান্সের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

ইউরোপের জন্য সাইপ্রাসের গুরুত্ব

যুদ্ধের শুরুতে ইরান-নির্মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সাইপ্রাসে হামলা চালানো হয়েছিল। ইউরোপের জন্য এই ঘটনাটি প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে, কারণ সাইপ্রাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্র এবং সেখানে ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে।